ফকল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের দাবি ‘সমাধান করতে পারব’
- ব্রিটেন-আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের সার্বভৌমত্ব বিরোধ মেটানোর আশ্বাস মার্কিন প্রেসিডেন্টের
- ১৯৮২ সালের যুদ্ধের স্মৃতি ঘিরে নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন

দক্ষিণ আটলান্টিকের ছোট্ট দ্বীপপুঞ্জ ঘিরে পুরনো বিরোধ আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে। ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে দীর্ঘদিনের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব বিতর্ক এবার নতুন মাত্রা পেল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যে। তাঁর দাবি, তিনি চাইলে এই বিরোধের “সমাধান করতে পারবেন”।
শনিবার ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ট্রাম্প বলেছেন, ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ফকল্যান্ড নিয়ে চলা বিরোধ মেটানোর ক্ষেত্রে তিনি ভূমিকা নিতে পারেন। তাঁর কথায়, “আমি সম্ভবত এটি সমাধান করতে পারব।” তবে কীভাবে বা কোন প্রক্রিয়ায় তিনি এই বিরোধ মেটাতে চান, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনও পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, যাকে আর্জেন্টিনায় মালভিনাস বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের বিরোধের কেন্দ্র। ১৯৮২ সালে এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ বাহিনী দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। তারপর থেকে লন্ডন দ্বীপবাসীদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে নিজেদের অবস্থানের মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরে আসছে।
সাম্প্রতিক সময়ে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই আবারও ফকল্যান্ডের ওপর তাঁর দেশের দাবি জোরালো করেছেন। দ্বীপসংলগ্ন এলাকায় তেল অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে ঘিরে বুয়েনস আইরেসের কঠোর অবস্থান নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের আগে থেকেই এই বিরোধ নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিকভাবে ফকল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে। তবে সাম্প্রতিক মন্তব্যে ট্রাম্প ব্রিটেনের প্রতি মার্কিন সমর্থন নিয়ে নতুন জল্পনা তৈরি করেছেন।
এর আগে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ফকল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। তিনি ব্রিটেনের সঙ্গে ইরান সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। ট্রাম্পের মন্তব্য ছিল, “আপনার দেশ আমাকে সাহায্য করতে পাশে ছিল না” যা ব্রিটেনের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলে।
তবে ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, ফকল্যান্ড নিয়ে তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত। লন্ডনের বক্তব্য, “ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ব্রিটিশ, এবং দ্বীপবাসীদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রয়েছে।” ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংও বলেছেন, দ্বীপবাসীদের নিরাপত্তা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রতি ব্রিটেনের প্রতিশ্রুতি “অটুট”।
আর্জেন্টিনার দিক থেকেও বিষয়টি শুধু ভূখণ্ডের প্রশ্ন নয়; এটি জাতীয় রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। প্রেসিডেন্ট মিলেই ফকল্যান্ডকে ঘিরে দেশের ঐতিহাসিক দাবি নতুন করে সামনে এনেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রস্তাব আপাতত কূটনৈতিক বার্তা হলেও এর প্রভাব বড় হতে পারে। কারণ ফকল্যান্ড ইস্যু শুধু ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনার সম্পর্কের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা, সামুদ্রিক সম্পদ এবং পশ্চিমা মিত্রদের পারস্পরিক আস্থার প্রশ্ন।
তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ট্রাম্প কি সত্যিই এই কয়েক দশকের পুরনো বিরোধের সমাধানের পথ তৈরি করতে পারবেন, নাকি তাঁর মন্তব্য আরও একটি নতুন কূটনৈতিক বিতর্কের সূচনা করবে?



