সুপার এল নিনোর সতর্কতা, ঘরে খাবার-পানি মজুত রাখার পরামর্শ ব্রিটেনের
- হাজার বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী জলবায়ু চক্রের আশঙ্কা
- চরম আবহাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে বলল লন্ডন

জাতিসংঘের সতর্কতার পর ব্রিটিশ সরকার নাগরিকদের জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত করার একটি প্রচারাভিযান শুরু করার পরিকল্পনা করছে।
প্রকৃতির রুদ্ররূপ কখন কোথায় আঘাত হানবে, তার নিশ্চয়তা নেই। তবে আগাম সতর্ক হলে বিপদের ধাক্কা কিছুটা সামলানো যায়। সেই প্রস্তুতির কথাই এবার মনে করিয়ে দিল ব্রিটিশ সরকার। ভয়াবহ শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতির আশঙ্কায় নাগরিকদের ঘরে কয়েক দিনের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার ও পানি মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ পরিবেশমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা ইগল বলেছেন, সামনে এমন এক আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে সাধারণ মানুষকে আরও “সহনশীল ও প্রস্তুত” হতে হবে। তার সতর্কবার্তা, বিদ্যুৎ বা পানির সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেলে জরুরি পরিষেবা পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত পরিবারের হাতে কিছু প্রয়োজনীয় রসদ থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের সতর্কতার পর ব্রিটিশ সরকার নাগরিকদের জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত করার একটি প্রচারাভিযান শুরু করার পরিকল্পনা করছে।
অ্যাঞ্জেলা ইগল বলেছেন, চলমান এল নিনো পরিস্থিতি সম্ভবত ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালীগুলোর একটি হতে পারে। এর ফলে ব্রিটেনে আরও শুষ্ক গ্রীষ্ম, বেশি বৃষ্টিপাতের শীত এবং তীব্র ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, বাড়িতে কিছু খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখা থাকলে জরুরি সময়ে মানুষ অনেক বেশি নিরাপদ থাকবে।
এল নিনো কী? এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যেখানে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে যায়, কোথাও খরা, কোথাও ভয়াবহ বন্যা, আবার কোথাও তীব্র ঝড় দেখা দিতে পারে।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এবারের এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং এটি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো ঘটনায় পরিণত হতে পারে। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরের এল নিনো অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রয়েছে এবং আগামী মাসগুলোতে তা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও একই দিন সতর্ক করে বলেছেন, “পৃথিবী এখন অজানা ঝুঁকির অঞ্চলে প্রবেশ করছে।” তাঁর মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এল নিনোর প্রভাব আরও তীব্র হয়ে উঠছে এবং এর ফলে চরম তাপপ্রবাহ, বন্যা, খরা ও অন্যান্য দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে দাবানল, বন্যা ও খাদ্য সংকট বাড়তে পারে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, এর প্রভাবে প্রায় ৫ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে পড়তে পারেন।
ব্রিটেনেও ঝুঁকি কম নয়। দেশটির আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এল নিনোর কারণে চলতি বছরের শেষ দিকে আরও বৃষ্টিবহুল ও ঝড়প্রবণ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের তাপপ্রবাহ ও খরার পর অবকাঠামো ও কৃষিক্ষেত্রেও বাড়তে পারে চাপ।
জলবায়ু পরিবর্তনের যুগে প্রকৃতির আচরণ ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। তাই ব্রিটিশ সরকারের বার্তা শুধু খাবার-পানি জমিয়ে রাখার নয়, বরং নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান।
কারণ ভবিষ্যতের বিপর্যয় হয়তো পুরোপুরি ঠেকানো যাবে না, কিন্তু প্রস্তুত থাকা গেলে তার ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব–এই বার্তাই এখন দিচ্ছে লন্ডন।





