ডাউনিং স্ট্রিট থেকে দৌড়পথে
বিশ্বের বৃহত্তম হাফ ম্যারাথনে ইতিহাস গড়লেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

রবিবার অনুষ্ঠিত এই ম্যারাথনে ৬৩ হাজার প্রতিযোগীর সঙ্গে ১৩.১ মাইল পথ পাড়ি দেন তিনি।
ডাউনিং স্ট্রিটের ব্যস্ত রাজনীতি থেকে এক দিনের জন্য দৌড়ের ট্র্যাকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। বিশ্বের বৃহত্তম হাফ ম্যারাথন গ্রেট নর্থ রান-এ অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়লেন তিনি। কর্মরত অবস্থায় এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রথম ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হলেন বার্নহ্যাম। রবিবার অনুষ্ঠিত এই ম্যারাথনে ৬৩ হাজার প্রতিযোগীর সঙ্গে ১৩.১ মাইল পথ পাড়ি দেন তিনি।
লেবার নেতা ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম ‘নম্বর ১০’ লেখা বিব নম্বর পরে নিউক্যাসল থেকে শুরু হওয়া এই ঐতিহ্যবাহী দৌড়ে অংশ নেন। শেষ করেন ১ ঘণ্টা ৫৭ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডে। দৌড় শেষে কিছুটা ক্লান্ত বার্নহ্যাম মজা করে বলেছেন, “এই মুহূর্তে আমাকে খুব একটা ভালো দেখাচ্ছে না।” নিজের সময় নিয়ে তিনি বলেন, “এটা নিয়ে খুশি থাকতেই হবে।”
এই দৌড় শুধু ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ ছিল না, এর সঙ্গে যুক্ত ছিল একটি সামাজিক বার্তাও। বার্নহ্যাম গৃহহীন মানুষের সহায়তায় কাজ করা দাতব্য সংস্থা চেঞ্জিং লাইভস-এর জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে এই দৌড়ে অংশ নেন। তিনি নিজের প্রথম মাসের প্রধানমন্ত্রীর বেতনের ১৫ শতাংশ এই সংস্থাকে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
গৃহহীনতা দূর করা বার্নহ্যামের সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর প্রথম দিকের ঘোষণাগুলোর মধ্যে ছিল রাস্তায় বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনা। গত মাসে তিনি শীতের আগেই গৃহহীনদের আশ্রয় দেওয়ার লক্ষ্যে জাতীয় পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন।
দীর্ঘদিন ধরেই দূরপাল্লার দৌড়ের সঙ্গে যুক্ত বার্নহ্যাম। এর আগে তিনি লন্ডন ও বোস্টন ম্যারাথনে অংশ নিয়েছেন এবং গ্রেট নর্থ রানেও একাধিকবার দৌড়েছেন। নিয়মিত অনুশীলনের অভ্যাস রয়েছে তাঁর; সপ্তাহে কয়েক দিন দৌড়ানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।
২০২৬ সালের গ্রেট নর্থ রান ছিল প্রতিযোগিতাটির ৪৫তম বর্ষ। নিউক্যাসল থেকে শুরু হয়ে সাউথ শিল্ডসে শেষ হওয়া এই দৌড়ে এবার রেকর্ড ৬৩ হাজার মানুষ অংশ নেন। প্রতিযোগিতার সূচনা করেন ইংল্যান্ড ও নিউক্যাসল ইউনাইটেডের ফুটবলার ড্যান বার্ন।
বার্নহ্যামের অংশগ্রহণে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। সমর্থকেরা বলেছেন, এর মাধ্যমে তিনি নিজেকে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি থাকা নেতা হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। অন্যদিকে সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জনসংযোগের কৌশল হিসেবেও এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।
তবে বার্নহ্যামের কাছে এটি ছিল ব্যক্তিগত বিশ্বাসের সঙ্গেও যুক্ত। গৃহহীনতা, স্থানীয় ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের বিষয়গুলোকে নিজের রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরে আসছেন তিনি। গ্রেট নর্থ রানের মাধ্যমে সেই বার্তাই আরও একবার সামনে আনলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী।



