জ্যাকের ক্যামেরায় কানাডার রহস্যময় সাদা ভালুকের জীবন

রহস্যময় স্পিরিট বিয়ার। ছবি : সংগৃহীত
কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার বৃষ্টিভেজা উপকূল জুড়ে ঘুরে বেড়ায় রহস্যময় প্রাণী স্পিরিট বিয়ার। ধবধবে সাদা পশমে ঢাকা রাজকীয় ও দুর্লভ এই ভালুকগুলোর সংখ্যা এখন ১০০-এর বেশি নয় বলেই ধারণা করা হয়। ভালুকের এই বিশেষ উপপ্রজাতিটি বিজ্ঞানীদের কাছে কারমোড বিয়ার নামেও পরিচিত।
পশ্চিম কানাডার গ্রেট বিয়ার রেইনফরেস্ট নামের এক বিশাল বনাঞ্চলে এদের বাস। উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের বরফশীতল পানি থেকে স্যামন মাছ শিকার করে লোকচক্ষুর আড়ালে দিন কাটে এই সাদা ভালুকদের।
এই বনে প্রায় ১১ হাজার বছর ধরে বাস করছে কিতাসু জাইজাইস, গিটগাআত, হেইলতসুকের মতো বেশ কিছু আদিবাসী গোষ্ঠী। এই সাদা ভালুক তাদের লোকগাথা, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।
তবে অবাক করা বিষয় হলো, একই বনে বাস করলেও এই আদিবাসী সম্প্রদায়ের অধিকাংশ মানুষই কখনো নিজের চোখে একটি স্পিরিট বিয়ার দেখেনি।
ব্রিটিশ আলোকচিত্রী জ্যাক প্ল্যান্ট গত এক দশক ধরে বছরের একটা বড় সময় কাটিয়েছেন এই আদিবাসীদের সঙ্গে। গাইড ও ফটোগ্রাফার হিসেবে বনের গভীরে গিয়ে তিনি বহুবার এই স্পিরিট বিয়ারের দেখা পেয়েছেন।
তার সেইসব অভিজ্ঞতার গল্প আর ক্যামেরায় বন্দি করা ৯০টি দুর্লভ ছবি নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ‘স্পিরিট অব দ্য গ্রেট বিয়ার’ নামে একটি বই।
বইটির ছবিগুলোতে সবুজ বনের মাঝে কিংবা নদীর ঠাণ্ডা জলে স্যামন মাছ শিকাররত সাদা ভালুকের এক অপরূপ রূপ ফুটে উঠেছে।
২০১৪ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের প্রচ্ছদে কিংবদন্তি আলোকচিত্রী পল নিকলেনের তোলা একটি স্পিরিট বিয়ারের ছবি দেখেই এই বনের প্রেমে পড়েছিলেন জ্যাক। পরবর্তীতে পল নিকলেন নিজেই জ্যাকের মেন্টর হন। তার এই নতুন বইটির ভূমিকাও লিখে দেন।
ভালুকেরও আছে জেলখানা!
২৬ এপ্রিল ২০২৬
খুব ছোট সম্প্রদায় হলেও পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় কিতাসু জাইজাইসরা অনন্য ভূমিকা রেখেছে। ২০১২ সালে তারা এই বনে শখের বশে বন্যপ্রাণী শিকার নিষিদ্ধ করে। তাদের এই উদ্যোগে উদ্বুদ্ধ হয়ে পরবর্তীতে কানাডা সরকারও ওই পুরো প্রদেশ জুড়ে গ্রিজলি ও কালো ভালুক শিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
জ্যাকের মতে, এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে বন্যপ্রাণী শিকার করার চেয়ে তাদের বাঁচিয়ে রেখে পরিবেশবান্ধব পর্যটন গড়ে তোলার অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেশি; আর এটি আমাদের একটি বড় জয়।
অনেকের ধারণা, এই ভালুকগুলো ধবল রোগে আক্রান্ত। কিন্তু আসলে বিষয়টি তা নয়। মা ও বাবা উভয় কালো ভালুকের শরীরে থাকা একটি বিশেষ সুপ্ত জিনের কারণেই এদের গায়ের রং এমন ধবধবে সাদা হয়।
তবে এই বনে ১০০টির মতো ভালুক থাকলেও জ্যাকের আশঙ্কা, বাস্তবে এই সংখ্যা ৫০-এর বেশি হবে না।
বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত মাছ ধরার কারণে নদীগুলোতে স্যামন মাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। ফলে এখানে দেখা দিচ্ছে তীব্র খাদ্যসংকট।
জ্যাকের বইয়ের একটি ছবিতে দেখা যায়, ২০১৮ সালের খরার সময় একটি সাদা ভালুক ও একটি কালো ভালুক একটি মৃত স্যামন মাছ নিয়ে টানা-হেঁচড়া করছে।
অবশ্য আদিবাসী নেতা ডগলাস নিয়াসলোসের মতে, এই ভালুকগুলোর সংখ্যা সবসময়ই কম ছিল। ২০০৫ সাল থেকে আদিবাসীদের তৈরি কোস্টাল গার্ডিয়ান ওয়াচমেন নামের একটি দল এই বনের জলপথ ও বন পাহারা দিচ্ছে। যার ফলে ওই এলাকায় অবৈধ শিকার ও মাছ ধরা এখন পুরোপুরি বন্ধ।
সূত্র : সিএনএন










