‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সমস্যার সমাধান চীন নয়’

প্রতীকী ছবি
চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারের কানাডার উদ্যোগ দেশটির অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এমনই সতর্কতা দিয়েছেন সাবেক কানাডীয় কূটনীতিক মিকায়েল কভরিগ। তিনি, বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপড়েনপূর্ণ সম্পর্কের প্রেক্ষাপট।
অটোয়ায় অনুষ্ঠিত ‘ফিউচার অব বিজনেস সামিটে’ মঙ্গলবার বক্তব্যে তিনি মত দেন, অটোয়ার নতুন চীন কৌশল একটি ‘ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ’, যা ওয়াশিংটনের কাছে নেতিবাচকভাবে প্রতিভাত হতে পারে এবং ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে চলমান বাণিজ্য আলোচনাকে।
তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুতনিক প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সাম্প্রতিক সময়ের চুক্তির সমালোচনা করেছেন, যেখানে সীমিত পরিসরে রয়েছে চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির বিষয়।
কোভরিগের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার বেশিরভাগ বাণিজ্য সমস্যার সমাধান দিতে পারবে না চীন। বরং বেইজিংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ালে যুক্তরাষ্ট্র কানাডাকে দেখতে পারে অবিশ্বস্ত মিত্র হিসেবে।
তিনি জানান, কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭৫ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রে যায়, যেখানে চীনের অংশ মাত্র ৪ শতাংশ।
চুক্তির লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে চীনে কানাডার রপ্তানি ৫০ শতাংশ বাড়ানো। তবে কোভরিগ সতর্ক করেন, চীন বর্তমানে আমদানি বাড়ানোর চেয়ে নিজেদের রপ্তানি বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগী, যা ঝুঁকি বাড়ায় দীর্ঘমেয়াদে নির্ভরতার।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক বা কূটনৈতিক চাপের মুখে বাড়তে পারে বছরে সর্বোচ্চ ৪৯ হাজার চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির মতো সীমিত প্রতিশ্রুতিও।
কোভরিগ সম্পূর্ণভাবে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পক্ষে না হলেও বলেছেন, বাণিজ্য চুক্তিগুলো হতে হবে নিয়ন্ত্রিত এবং প্রয়োজনে প্রত্যাহারযোগ্য।
অন্য বিশেষজ্ঞরাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তারা মনে করেন এই চুক্তি জটিল করে তুলতে পারে উত্তর আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি নবায়নের প্রচেষ্টাকে।
তবে ফেডারেল সরকার বলছে, চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানো এখনো তাদের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক লক্ষ্য।
তথ্যসূত্র : গ্লোবাল নিউজ

