পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু চুক্তি মানার নির্দেশ আন্তর্জাতিক আদালতের, প্রত্যাখ্যান ভারতের

সংগৃহীত ছবি
পানি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের বিরোধ গড়িয়েছে আন্তর্জাতিক আদালত পর্যন্ত। সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার কোনো আইনি ভিত্তি ভারতের নেই বলে সোমবার রায় দিয়ে চুক্তিটি মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন হেগের স্থায়ী সালিশি আদালত। একই সঙ্গে কাশ্মীরে ভারতের নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেও সীমাবদ্ধতা আরোপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই রায় সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত।
গত বছরের এপ্রিলে কাশ্মীরের একটি পর্যটনকেন্দ্রে হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত ওই চুক্তি স্থগিত করে। ওই হামলায় জড়িত তিন হামলাকারীর মধ্যে দুজনকে পাকিস্তানি বলে শনাক্ত করেছিল ভারত। চুক্তিটি পাকিস্তানের ৮০ শতাংশ কৃষিজমিতে পানির সরবরাহ নিশ্চিত করে।
ইসলামাবাদ ওই হামলায় কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করে। একই সঙ্গে গত বছর কাশ্মীর অঞ্চলের দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে জলাধারের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর কাজ শুরু করার পর ভারতের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয় পাকিস্তান।
১৯৬০ সাল থেকে দুই দেশের মধ্যে কার্যকর থাকা সিন্ধু পানি চুক্তির আওতায় থাকা সমঝোতার বাইরে গিয়ে ভারতের কাজ করার এটিই প্রথম বাস্তব পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়েছিল। তিনটি যুদ্ধ ও আরও কয়েকটি সংঘাতের পরও দুই দেশ এত বছর ধরে চুক্তিটি মেনে এসেছে।
স্থায়ী সালিশি আদালত বলেছেন, সিন্ধু পানি চুক্তি এখনো পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। চুক্তিটি বাতিল বা স্থগিত করার ক্ষেত্রে ভারতের কোনো যৌক্তিক কারণ ছিল না।
আন্তঃসরকারি আদালতটির ভাষ্য, ‘ভারতকে চুক্তির আওতায় থাকা তার বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হবে। এর মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোতে ভারতের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর নকশা ও পরিচালনা-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতাও রয়েছে।’
আদালতের আনুষ্ঠানিক সদস্য ভারত অবশ্য বলেছে, তারা এই আদালতকে স্বীকৃতি দেয় না এবং রায়টি ‘দৃঢ়ভাবে’ প্রত্যাখ্যান করেছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘তথাকথিত এই সালিশি আদালতের ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের বিষয়ে রায় দেওয়ার কোনো এখতিয়ারই নেই।
মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ‘এখন বা ভবিষ্যতে এর দেওয়া কোনো সিদ্ধান্তই ভারতের নেওয়া প্রকল্পগুলোর বিষয়ে ভারতের কর্মকাণ্ডে কোনো প্রভাব ফেলবে না।’
আদালত জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাংক নিযুক্ত একজন নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে হিমালয় অঞ্চলে জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নির্ধারণ করবেন।
পাকিস্তানের দাবির সঙ্গে একমত হয়ে আদালত বলেছেন, ওই নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের সিদ্ধান্তের ৯০ দিন না পেরোনো পর্যন্ত রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধের দেয়াল ও পানি প্রবেশের কাঠামো নির্দিষ্ট উচ্চতার বেশি নির্মাণ করতে পারবে না ভারত।








