সারা বিশ্বে বাড়লেও চীনে কমল তেলের দাম

২০২৬ সালের ৯ মার্চ চীনের নানজিং শহরে মানুষ গাড়িতে তেল নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিল।
ইরান আর আমেরিকার যুদ্ধ শুরুর পর পুরো বিশ্বের সঙ্গে চীনের সাধারণ মানুষেরও নাভিশ্বাস উঠেছিল তেলের দামে। তবে এবার সেই চিন্তার মেঘ কিছুটা কাটতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার রাত থেকে নিজেদের দেশে পেট্রল ও ডিজেলের দাম কমানোর বড় ঘোষণা দিয়েছে চীন। চলতি বছর এই প্রথম তেলের দাম কমালো দেশটি। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা থিতু হওয়ায় বেইজিং জানাল এই স্বস্তির খবর।
চীনের এই সিদ্ধান্তের ফলে সরাসরি উপকৃত হবে সাধারণ মানুষ। এখন থেকে ৫০ লিটারের একটি তেলের ট্যাঙ্ক পূর্ণ করতে একজন গাড়ি মালিকের আগের চেয়ে প্রায় ৩.২৩ ডলার বা বেশ ভালো অঙ্কের টাকা সাশ্রয় হবে। এতে যাতায়াত খরচ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলে হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই গরম হয়ে ওঠে বিশ্ব জুড়ে তেলের বাজার। তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় গত মার্চ মাস থেকে চীন তিন দফায় দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছিল। তবে যুদ্ধের কঠিন সময়েও সাধারণ মানুষের কথা ভেবে চীন সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় অর্ধেক বাড়াত, যাতে বেশি চাপ না পড়ে মধ্যবিত্তের ওপর।
চীনের ‘ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ কমিশন’ জানিয়েছে, তারা প্রতি টন পেট্রলে দাম কমিয়েছে ৫৫৫ ইউয়ান এবং ডিজেলে ৫৩০ ইউয়ান। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘অয়েলকেম’ বলছে, তেলের দাম অনেক বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষ তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছিল। ফলে তেলের শোধনাগারগুলোয় প্রচুর তেল জমা হয়ে পড়ে। সেই জমানো স্টক খালি করতেই এখন দাম কমানো হচ্ছে পাইকারি আর খুচরা বাজারে।
চীনে তেলের দাম নির্ধারণের নিয়মটা বেশ মজার। সেখানে প্রতি ১০ কর্মদিবস পরপর আন্তর্জাতিক বাজারের তেলের দামের সঙ্গে মিলিয়ে দেশের বাজারের দাম কমানো বা বাড়ানো হয়। তেল প্রক্রিয়াজাত করার খরচ, ট্যাক্স আর ব্যবসায়ীদের লাভের কথা মাথায় রেখেই দাম ঠিক করে দেয় সরকারি এই সংস্থা। এর আগে গত ৭ এপ্রিল শেষবারের মতো তেলের দাম বাড়িয়েছিল দেশটি।
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলায় তেলের বাজার ঠান্ডা হয়েছে কিছুটা। কিন্তু এই শান্তি কতদিন টিকবে, তা নিয়ে আছে সন্দেহ। সম্প্রতি ‘তুস্কা’ নামের একটি ইরানি জাহাজে হামলার অভিযোগ উঠেছে আমেরিকার বিরুদ্ধে। এতে দুই দেশের মধ্যে আবারও উত্তেজনা শুরু হয়েছে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের বড় একটা অংশ যায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ইরান এই এলাকায় মাঝেমধ্যেই অবরোধ দেয়, আবার তুলে নেয়। সিটি ব্যাংকের বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, যদি এই পথে ঝামেলা চলতেই থাকে, তবে ২০২৬ সালের মাঝামাঝিতে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১১০ ডলারে পৌঁছে যেতে পারে। ফলে চীনের এই দাম কমার আনন্দ কতদিন স্থায়ী হবে, তাও এখন দেখার বিষয়।

