বেইজিংয়ে পুতিন-শি বৈঠক, ‘বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্ব’ গড়ার ঘোষণা

বেইজিংয়ে শি ও পুতিনের বৈঠক- রয়টার্স
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বেইজিংয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করেছেন। বৈঠকের মূল বিষয় ছিল ‘বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্ব এবং নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক’ গড়ে তোলা। একই সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের দীর্ঘমেয়াদি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে বিস্তৃত চুক্তিপ্যাকেজও ঘোষণা করেন দুই নেতা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুদিনের চীন সফর এবং বেইজিংয়ে শির সঙ্গে বৈঠকের মাত্র কয়েক দিন পর এই শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো, যা বৈশ্বিক শক্তিগুলোর মধ্যে বাড়তে থাকা প্রতিযোগিতাকে করে তুলেছে আরও স্পষ্ট।
রাশিয়া-চীন আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল ‘বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্ব’ ধারণা, যেখানে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক প্রভাব একটি মাত্র পরাশক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত না থেকে ভাগাভাগি থাকবে একাধিক দেশের মধ্যে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সমর্থন জানিয়ে দুদেশ যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এটিকে ৪৭ পৃষ্ঠার একটি বিস্তারিত নীতিগত দলিল হিসেবে বর্ণনা করেছেন ক্রেমলিনের সহকারী ইউরি উশাকভ।
যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন ‘এককেন্দ্রিক’ বৈশ্বিক আধিপত্যের সমালোচনা করেছেন পুতিন ও শি উভয়েই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শি সতর্ক করে বলেছেন, ‘একতরফা আধিপত্যবাদের প্রবণতা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।’ অন্যদিকে পুতিন বহুবার অভিযোগ করেছেন, নিজেদের বৈশ্বিক প্রভাব বজায় রাখতে সংঘাত উসকে দেয় ওয়াশিংটন।
ক্রেমলিন জানিয়েছে, মস্কো ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক ‘অভূতপূর্ব পর্যায়ে’ পৌঁছেছে। চীনা কর্মকর্তারা বলছেন, বাণিজ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, গণমাধ্যম ও উন্নয়ন পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করতে চায় দুদেশ।
অর্থনৈতিক সম্পর্কও ছিল আলোচনার কেন্দ্রীয় বিষয়। মস্কো জানিয়েছে, প্রায় ৪০টি আন্তঃসরকারি ও করপোরেট চুক্তি সই হয়েছে, যার অনেকগুলোই অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সঙ্গে সম্পর্কিত।
গত বছর দুদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২৪০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায় বলে জানা গেছে। চীন জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে বাণিজ্য বেড়েছে ২০ শতাংশ।
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়া ক্রমশ চীনা প্রযুক্তি ও উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। মস্কো আরও জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে প্রায় সব বাণিজ্য এখন মার্কিন ডলারের পরিবর্তে রুবল ও ইউয়ানে সম্পন্ন হচ্ছে।
জ্বালানি সহযোগিতাও আলোচনায় উঠে আসে। এর মধ্যে ছিল বিলম্বিত ‘সাইবেরিয়া-২’ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পের অগ্রগতি, যার মাধ্যমে মঙ্গোলিয়ার হয়ে প্রতি বছর ৫ হাজার কোটি ঘনমিটার রুশ গ্যাস চীনে সরবরাহ করা হবে।
এ ছাড়া শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও একমত হয়েছেন দুই নেতা।
সূত্র: আলজাজিরা


