ভারী খননযন্ত্র রপ্তানি বন্ধে কঠোর হচ্ছে চীন, বিপাকে ভারত

চীনের ভারী খননযন্ত্র। ফাইল ছবি / সংগৃহীত
চীনের ভারী নির্মাণ সরঞ্জাম রপ্তানিতে নতুন নিয়ন্ত্রণ ভারতের অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনায় বাধা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সুড়ঙ্গ খননের কাজে ব্যবহৃত বিশাল যন্ত্র এবং সেগুলোর যন্ত্রাংশ সরবরাহে সীমাবদ্ধতা এলে দেশটির চলমান ও পরিকল্পিত প্রকল্পগুলো চাপে পড়তে পারে।
চীনের নতুন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের আওতায় রয়েছে সুড়ঙ্গ খননযন্ত্রসহ বিভিন্ন ভারী নির্মাণ সরঞ্জাম। পাহাড়ের ভেতর দিয়ে সড়ক ও রেলপথ নির্মাণ এবং পাতালরেল প্রকল্পে এসব যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া উঁচু স্থানে কংক্রিট ছিটানোর যন্ত্রও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আসছে। চলতি মাসের শেষ দিকে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা।
বেইজিংয়ের দাবি, এসব সরঞ্জাম বেসামরিক ও সামরিক—দুই ধরনের কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। তাই চীনের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে—এমন ‘সংবেদনশীল দেশ ও অঞ্চলের’ ক্ষেত্রে রপ্তানিতে আরও কঠোর নিয়ম কার্যকর হবে।
এই সিদ্ধান্তে ভারতের উদ্বেগের কারণ রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে হিমালয় সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছে। ওই এলাকায় সেনা চলাচলের সময় কমাতে সড়ক ও রেলপথ নির্মাণ করছে ভারত। এসব প্রকল্পে বিপুলসংখ্যক সুড়ঙ্গ নির্মাণ করতে হবে। ফলে চীনা যন্ত্রের সরবরাহে বাধা এলে প্রকল্পের কাজ ধীর হয়ে যেতে পারে।
এর আগে ২০২৪ সালেও ভারতের কাছে সুড়ঙ্গ খননযন্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে চীনের বাধার মুখে পড়েছিল জার্মান প্রতিষ্ঠান হেরেনকনেখট। প্রতিষ্ঠানটি চীনে তৈরি কিছু যন্ত্র ভারতে বিক্রি করতে চেয়েছিল। আহমেদাবাদ-মুম্বাই বুলেট ট্রেন ও দিল্লি মেট্রোর মতো প্রকল্পে এসব যন্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল। নতুন নিয়ন্ত্রণের প্রভাব পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ভারতের জন্য উদ্বেগের আরেকটি কারণ, নতুন নিয়ন্ত্রণ শুধু নতুন যন্ত্র কেনার ক্ষেত্রে নয়, যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। ফলে আগে কেনা যন্ত্রগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। ভারতের গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব বলেছেন, এসব যন্ত্রে ব্যাপক ক্ষয় হয় এবং নিয়মিত যন্ত্রাংশের প্রয়োজন পড়ে। সরবরাহে বাধা এলে পুরোনো যন্ত্রের পাশাপাশি নতুন কেনাকাটাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিশ্বের সুড়ঙ্গ খননযন্ত্রের বাজারের প্রায় ৭০ শতাংশ চীনের নিয়ন্ত্রণে। দেশটির প্রধান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং ইকুইপমেন্ট গ্রুপের যন্ত্র বিশ্বের ৩৬টি দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে।
চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে নিজস্ব উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে ভারত। আগামী পাঁচ বছরে সুড়ঙ্গ নির্মাণে ৯৬০ কোটি ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্য রয়েছে দেশটির। তবে চীনের বড় পরিসরের উৎপাদন ও কম দামের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া ভারতের জন্য কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তারা।
সূত্র : এনডিটিভি




