ডেলিভারির ফাঁকে কবিতা লিখে পেলেন দেশসেরা সাহিত্য পুরস্কার

পেশায় তিনি ফুড ডেলিভারি
পারসন। অর্থাৎ শহরের বিভিন্ন অংশে ঘুরে ঘুরে গ্রাহকের ঘরে খাবার পৌঁছে দেন। এই কাজ
করেই চলে সংসার। তবে যার হৃদয়ভরা কাব্য, তার কী এই পেশায় মন ভরে? তাইতো মনের খোরাক
মেটাতে খাবার ডেলিভারির পাশাপাশি লেখেন কবিতা। আর সেই কবিতাই তাকে পৌঁছে দিয়েছে দেশের
সাহিত্যজগতের শীর্ষে। পেয়েছেন দেশসেরা পুরস্কার।
বলছি, চীনের ওয়াং জিবিংয়ের কথা। সম্প্রতি কবিতা সংকলন ‘লো-ফ্লাইট’ এর জন্য তিনি জিতেছেন দেশটির ‘লু শুন’ পুরস্কার। আধুনিক চীনা সাহিত্যের জনক লু শুনের নামে
প্রবর্তিত এই পুরস্কারকে চীনের শীর্ষ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
৫৬ বছর বয়সী ওয়াং জিবিং ২০১৯ সাল থেকে খাবার ডেলিভারির কাজ করেন। খাবার পৌঁছে দেওয়ার
ফাঁকে ফাঁকেই ছোট ছোট কাগজে কবিতা লিখতেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করতেন
এসব কবিতা ও প্রবন্ধ। এর মাধ্যমে জনপ্রিয়তাও পান।
ওয়াং জিবিংয়ের জন্ম চীনের জিয়াংসু প্রদেশে। অভাব-অনটনের কারণে মাত্র ১৪ বছর বয়সে স্কুল
ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর নির্মাণ শ্রমিক, আবর্জনা সংগ্রহকারী এবং ফুটপাতে দোকান দিয়ে বিভিন্ন
জিনিস বিক্রিও করতে হয়েছে। এত কিছুর মধ্যেও লেখাপড়ার ওপর থেকে আগ্রহ হারায়নি তার। এরপর
ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ শুরু করলেও বই পড়ার অভ্যাস ছাড়েননি। বরং এই কাজে যোগ দিয়ে
পান কাজের স্বাধীন সময়। ফলে বেড়ে যায় বই পড়া। পাশাপাশি চলছিল কবিতা লেখাও।
২০২২ সালে তার লেখা ‘ম্যান ইন এ হারি’ কবিতাটি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ২০১৯ সালে খাবার ডেলিভারির সময় এক গ্রাহক
ভুল ঠিকানা দেওয়ায় কয়েক ঘণ্টা ঘুরতে হয়েছিল তাকে। সেই প্রেক্ষাপট থেকেই লিখেছিলেন এই
কবিতাটি। এরপর ২০২৩ সালে ‘ম্যান ইন এ হারি : পয়েমস অব এ ফুড ডেলিভেরি রাইডার’ নামে প্রকাশ হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
২০২৪ সালে প্রকাশ হয় কবিতা সংকলন ‘লো ফ্লাইট’। পরের বছরেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রকাশনা সংস্থা
কবিতাটির ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করে। লো ফ্লাইট কাব্যগ্রন্থটি চীনের ২০০ জন ফুড ডেলিভেরি
রাইডারের সাক্ষাৎকার ও জরিপের মাধ্যমে লেখা। এর একটি জনপ্রিয় লাইন হলো, ‘উড়তে হলে যে উঁচুতেই উড়তে হবে তার মানে নেই, নিচুতে উড়েও তো ওড়া যায়’।
পুরস্কার জয়ের পর ওয়াং গ্লোবাল টাইমসকে বলছিলেন, নাম ঘোষণার আগ পর্যন্ত তিনি ভীষণ মানসিক চাপে ছিলেন। তবে ফল ঘোষণার পরই যেন দূর হয়ে যায় সব চাপ।




