শি জিনপিং
এআইয়ের ওপর একটি দেশের আধিপত্য থাকতে পারে না

শি জিনপিং- রয়টার্স
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ওপর কোনো একক দেশের আধিপত্য থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এই খাতের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া মূল বক্তব্যে শি এ কথা বলেন। তিনি এআই প্রযুক্তির উন্নয়নে ‘মানুষকেন্দ্রিক’ দৃষ্টিভঙ্গির ওপরও জোর দেন।
এই সম্মেলনে এমন সব অত্যাধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে, যা একদিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে আশা করছে চীন। চীনের এআই মডেলগুলো দ্রুত অগ্রগতি করছে। কম খরচের কারণে এগুলো বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করছে এবং এগিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী এআই মডেলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায়।
তবে সামরিক ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার এবং হ্যাকার ও অপরাধীদের হাতে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের আশঙ্কায় খাতটি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে বিশ্বজুড়ে।
শি জানান, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এআই সক্ষমতা গড়ে তুলতে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে চীন ভূমিকা রাখতে চায়। এর মাধ্যমে ‘নতুন ধরনের ঐতিহাসিক বৈষম্য’ সৃষ্টি ঠেকানো সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করেন শি। এ লক্ষ্যে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, এশিয়া এবং ব্রিকসভুক্ত দেশসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতার পরিকল্পনার ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ‘এআইয়ের উন্নয়ন কোনো এক দেশের একক প্রদর্শনী হওয়া উচিত নয়। এটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এক ঐকতান হওয়া উচিত। এআইয়ের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তার ধারণাকে অযথা বিস্তৃত করা বা অন্য দেশের নিরাপত্তার চেয়ে একটি দেশের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিরোধিতা আমাদের যৌথভাবে করতে হবে।’
চীন থেকে প্রযুক্তিপণ্য আমদানির ওপর জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এদিকে ওয়াশিংটন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এআই প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক বিরোধও শীর্ষ প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে।
গত মে মাসে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ চীনা কোম্পানির বিদেশে থাকা সহযোগী প্রতিষ্ঠানে সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ বহাল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে একটি নির্দেশনা জারি করে। ওয়াশিংটনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার ফাঁকফোকর নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই নেওয়া হয় এই পদক্ষেপ।
শুক্রবারের সম্মেলনে শি আবারও মানুষকেন্দ্রিক এআই উন্নয়নের ওপর জোর দেন।
তিনি বললেন, ‘এআই যেন সব সময় মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তা নিশ্চিত করতে আইন ও বিধিমালা, প্রযুক্তিগত নজরদারি, আগাম সতর্কতা এবং জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।’




