ইয়েমেনে ভয়াবহ বিমান হামলা সৌদির
- সক্রিয় হতে পারে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি
- হুতি দমনে নামতে পারে পাকিস্তানও

সংগৃহীত ছবি
ইরান যুদ্ধের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সংঘাত। সৌদি ভূখণ্ডে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর গতকাল ইয়েমেনের চার প্রদেশে দফায় দফায় ৩২টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে ইরান সমর্থিত দেশটির হুতি সরকারকে ভয়ংকর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ। ফলে আরও বড় আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে রিয়াদ-সানা সংঘাত।
চায়না ডেইলির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল বুধবার কয়েক ঘণ্টায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের যুদ্ধবিমান ইয়েমেনের মারিব, আল-জাওফ, তাইজ ও হোদেইদাহ প্রদেশে ৩২টি হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে হুতিরা। হুতি-নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশন এ দাবি করলেও হামলাগুলোর নির্দিষ্ট লক্ষ্য, হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানায়নি। সৌদি আরবও ওই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি। তবে মাঠপর্যায়ের এক সামরিক কর্মকর্তা চায়না ডেইলিকে জানিয়েছেন, হুতি-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে এসব হামলা হয়েছে এবং সরকারি বাহিনীকে স্থলযুদ্ধে বিমান সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার ভোর থেকে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে হুতিরা একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান এলাকায় বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার কথা জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। সৌদি কর্তৃপক্ষের হিসাবে এতে অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন। কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনায় আগুন ধরে যায় এবং কিছু কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।
পাকিস্তান কি নামছে যুদ্ধে?: এ সংঘাতের সবচেয়ে বড় নতুন প্রশ্ন এখন পাকিস্তানের সম্ভাব্য সামরিক ভূমিকা। বুধবার তুর্কি টুডের এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে পাকিস্তানি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, সৌদি আরব অনুরোধ করলে ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাতে পারে পাকিস্তানও। সূত্রের দাবি, হামলা হলে হুতিদের শক্ত ঘাঁটি সা’দাহসহ কয়েকটি এলাকা সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে। তবে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, সৌদি আরবের ওপর হামলা হলে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সক্রিয় হতে পারে এবং একটি সদস্যের ওপর হামলাকে সব স্বাক্ষরকারী দেশের ওপর হামলা হিসেবে দেখা হবে। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের পারস্পরিক প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কারণে হুতি-সৌদি সংঘাত এখন আঞ্চলিক নিরাপত্তার বড় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
এদিকে সৌদি-ইয়েমেন সীমান্তের আল-ওয়াদিয়াহ ক্যাম্পের কাছে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামবাহী ট্রাকে হুতিদের হামলার দাবি করা একটি ভিডিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সামরিক সরঞ্জামবাহী একটি ট্রাকে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার দৃশ্য দেখা যায়। তবে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা যায়নি। মঙ্গলবার ভোরে সৌদি হামলার পাশাপাশি আল-ওয়াদিয়াহ ক্রসিংয়ের কাছেও সামরিক সরঞ্জামবাহী ট্রাক লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করা হয়েছে। এর আগে সোমবার সীমান্ত এলাকায় সৌদি-সংযুক্ত সামরিক সরঞ্জামবাহী ট্রাকে হামলার ছবি ও ভিডিও প্রকাশের কথাও উঠে এসেছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে।
রিয়াদের কড়া হুঁশিয়ারি: সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান হুতিদের সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাদের বর্তমান পদক্ষেপের এমন পরিণতি হতে পারে, যা তারা সামলাতে পারবে না। তিনি হুতিদের কঠিন পরিস্থিতিতে পড়লেই সহিংসতার পথ বেছে নেওয়ার অভিযোগও করেন।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতির
দ্রুত অবনতি হচ্ছে। মঙ্গলবার ভোরে সৌদি ভূখণ্ডে হুতিদের হামলা, সোমবারের আল-ওয়াদিয়াহ
ভিডিও দাবি এবং বুধবার ইয়েমেনে ৩২টি বিমান হামলার খবর— এ ধারাবাহিকতায় এখন সবচেয়ে বড়
নজর পাকিস্তানের দিকে। সৌদি অনুরোধে ইসলামাবাদ যদি সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে
ইয়েমেনের
সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়ে আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি।





