ট্রাম্পের দাবি
হরমুজ প্রণালিতে ইরান নয়, টোল নেবে যুক্তরাষ্ট্র

সংগৃহীত ছবি
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো টোল আদায় করতে পারবে না ইরান, তবে প্রয়োজনে তা আদায় করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এমনটাই মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় এ কথা জানান তিনি।
ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুদ্ধবিরতির ৬০ দিনের সময়কালে হরমুজ প্রণালিতে কোনো টোল থাকবে না এবং ৬০ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কোনো টোল থাকবে না, যদি না তা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে আরোপ করা হয়।’
এর আগে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হলে কৌশলগত চাপ সৃষ্টির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে ইরান। পরে বুধবার স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি সমঝোতা স্মারকে ৬০ দিনের জন্য প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয় দুই পক্ষ। ওই সময়ের মধ্যে ইরানের জন্য টোল আদায় নিষিদ্ধ করা হয়।
তবে ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ডের দাবি, সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন হওয়ায় আবার বন্ধ করা হয়েছে হরমুজ প্রণালি। এর পেছনে দক্ষিণ লেবাননে নতুন ইসরায়েলি হামলাকে দায়ী করছে তারা।
সমঝোতা স্মারকে ৬০ দিনের পর হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা নেই। যুদ্ধের আগে এই পথে চলাচলের জন্য কোনো ফি নেওয়া হতো না।
এর আগে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রণালিটিকে স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত রাখার পক্ষে মত দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে ভিন্ন অবস্থানের দিকে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
তার ভাষ্য, ‘চুক্তি সম্পন্ন না হলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে টোল আরোপ করা হতে পারে।’ তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতে ‘উদ্ধারকর্তা’ হিসেবে যে সেবা যুক্তরাষ্ট্র দিচ্ছে, তার ব্যয় পুনরুদ্ধারের জন্য এমন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
এর আগে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের ‘অভিভাবক’ হওয়ার বিনিময়ে অঞ্চলটির আয়ের ২০ শতাংশ পাওয়ার ধারণাও তুলে ধরেছিলেন। এপ্রিল মাসেও তিনি সাংবাদিকদের কাছে একই ধরনের বক্তব্য দেন। সে সময় তার মন্তব্য ছিল, ‘আমরাই বিজয়ী। আমরা জিতেছি। তাহলে টোল আমরা নেব না কেন?’
এদিকে ইরানের কর্মকর্তারা বারবার বলে আসছেন, হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপের বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছেন না তারা। তাদের মতে, এটি সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক আলোচনার বিষয়। কারণ প্রণালিটি ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত।
ইরানের কর্মকর্তাদের দাবি, নতুন আলোচনা শুরুর আগেই নিশ্চিত করতে হবে সমঝোতা স্মারকের যথাযথ বাস্তবায়ন এবং এরপরই শুরু হবে ৬০ দিনের সময় গণনা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, রবিবার সুইজারল্যান্ডে শুরু হবে পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনা।
ইতোমধ্যে সেখা পৌঁছেছেনে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির নেতৃত্বে ইরানি প্রতিনিধিদল। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে জ্যারেড কুশনার, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এবং প্রায় ৩০ শতাংশ সার বাণিজ্য এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। ফলে প্রণালিটি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং কৃষিখাতে চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।





