Agamir Somoy E-Paper
বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
মানবকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ তরুণ কামরুজ্জামান
বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় বিদেশ

পরাশক্তিরা কেন যুদ্ধে পারে না

শামীম জোয়ার্দার
শামীম জোয়ার্দার
agamir somoy
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৭:০৫
পরাশক্তিরা কেন যুদ্ধে পারে না

গ্রাফিকস: আগামীর সময়

জমিদারের লেঠেল বাহিনীর যুগও গেছে; সেটিও প্রায় ৭৫ বছরের অতীত। তারও কয়েকশ বছর আগে অস্ত গেছে রাজা-বাদশাহদের ঢাল-তলোয়ারের সূর্য। ঢুলু ঢুলু সে অস্তাচলেই চীনের ঘরে (নবম শতকে) আসে কামান গানপাউডার (বারুদ)। ১৫০০ থেকে ১৬০০ শতাব্দীতে গানপাউডার ও আগ্নেয়াস্ত্রের লাগামছাড়া দাপটে শিকেয় ওঠে সম্মুখসমরের গর্জন। অস্ত্র যার, ময়দান তার— রণক্ষেত্রে আদিকালের এই পূর্বপুরুষীয় নীতিতে ছোট ছোট চিড় থেকে বড় ফাটলও সেই থেকেই। পরাশক্তিদের দুর্গে বাজে যুদ্ধের নয়া বিউগল— প্রযুক্তি যার জয় তার। সমরাঙ্গনের রণঝংকারে আসে দূরপাল্লার ছন্দ। এরপর বিংশ শতকের কালরথে আসে যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন, দূরপাল্লার সব সমরাস্ত্র। এখন বোমা-পারমাণবিক বোমা, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র— কত সঙ্গী সমকালের রণাঙ্গনে!

সমভূমির এসব মহানায়কের জোরেই এতদিন শির খাড়া করে বুক ফুলিয়ে বিশ্ব শাসন করেছে মহাশক্তির আধার পরাশক্তিধর দেশগুলো। কিন্তু সময় বদলাচ্ছে। একবিংশের হাওয়া লেগেছে রণভূমির আধুনিক দীক্ষায়ও! যার সেনাবাহিনী বড়, অর্থনীতি শক্তিশালী, অস্ত্র আধুনিক, প্রযুক্তি উন্নত— দিন শেষে তার পক্ষেই যাবে যুদ্ধের ফল। বিশ্বরাজনীতির পুরনো এ ধারণাও এখন দূর মরীচিকা। বিশ্বের ছোট দেশগুলোর সঙ্গে হালের পরপর তিনটি যুদ্ধে বড় দেশগুলোর নাজেহাল দশাই তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। অস্ত্র নয় জোট, শক্তি নয় কূটনীতি— বর্তমান বিশ্বের নতুন যুদ্ধবিদ্যা।

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২৪ ঘণ্টার ইউক্রেন দখলে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলেছে রাশিয়া। এখনো জয় পায়নি। সীমান্তে সীমান্তে চরকির মতো ঘুরছে আজও। ভারতের সঙ্গে ৪ দিনের (৭ থেকে ১০ মে ২০২৫) সংঘাতে সামরিক-কূটনৈতিক কোনোদিকেই নিজেকে দুর্বল প্রমাণ করতে দেয়নি পাকিস্তান। সবচেয়ে বড় চমক দেখাল ইরান।

পরপর দুবার। প্রথমবার যেনতেন; শেষবার তো ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’ দশা যুক্তরাষ্ট্রের। ২৮ ফেব্রুয়ারির সকালে সরকার পতনের দুর্বার দাপটে ছুটে এসেছিল তারা। দিন শেষে ধূর্ত শিয়ালের মতো লেজ গুটিয়ে সেও পালাল। জল-স্থল-আকাশের বাহাদুরি শেষে ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসাতে ‘মোল্লা’ ধরতে হয়েছে বর্তমান বিশ্বের এই মোড়ল রাষ্ট্রকেও। কিন্তু কেন? যোদ্ধাবাজ জাতিখ্যাত পৃথিবীর শীর্ষ অস্ত্র নির্মাতা, ৯৯৭ বিলিয়ন ডলারের ‘চোখ কপালে ওঠা’ সমর বাজেটের বিশ্বসেরা সামরিক বাহিনীর প্রতাপশালী সাম্রাজ্য যুক্তরাষ্ট্রেরও কেন দম ফুরিয়ে গেল দুই কদম না দৌড়াতেই! মধ্যপ্রাচ্যের কোন চোরাবালিতে ফেঁসে গেল মার্কিন বুট? ভূরাজনীতি? নাকি দ্বিমেরু বিশ্বের বহুমুখী হিসাবনিকাশের ফাঁদ? যুদ্ধ কি তাহলে অস্ত্রে, নাকি রণক্ষেত্রের পেছনের গলিতে?

আধুনিক ভূরাজনীতির সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো— শক্তির সংজ্ঞা বদলে গেছে। পাল্টে গেছে আগের সেই ‘পানিপথের খেলা’। যুদ্ধ এখন শুধু সামরিক শক্তির পরীক্ষা নয়। বরং গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তি, বৈশ্বিক জোট, অর্থনৈতিক সহায়তা, নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানি বাজার, সাইবার সক্ষমতা, জনমত এবং তথ্যযুদ্ধের সম্মিলিত প্রতিযোগিতা। বড় রাষ্ট্র সামরিকভাবে শক্তিশালী হলেও ছোট বা তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষকে দ্রুত পরাজিত করা এখন আর সহজ নয়। পিঁপড়ার মতো জোট বেঁধে থাকে। ওপর থেকে একপেয়ো পথের মতো শীর্ণ মনে হলেও হাত দিলেই হাজার হাজার কামড়! রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এই পরিবর্তনের সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ। সামরিক শক্তিতে ইউক্রেনের চেয়ে অনেক বড় রাশিয়া। সক্রিয় সেনাবাহিনীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। চলতি বছরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা বাজেট ১৯০ বিলিয়ন ডলার। পক্ষান্তরে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় ৮৪ দশমিক ১। যুদ্ধের আগে ছিল (২০২১ সালে) ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার মাত্র। সেনাবাহিনীতে সক্রিয় সদস্যের সংখ্যা ৬ লাখ ৭৭ হাজার। চার বছর আগে ছিল মাত্র আড়াই লাখ। আয়তনেও প্রায় ২৮ গুণ বড় রাশিয়া। ইউক্রেনের আয়তন প্রায় ৬ লাখ ৩ হাজার ৫৫০ বর্গকিলোমিটার। রাশিয়ার প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ৯৮ হাজার ২৪২ বর্গকিলোমিটার। পারমাণবিক বোমা, সাড়ে ৫ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুকেও তুলোধুনো করার গতি সম্পন্ন আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, পারমাণবিক সাবমেরিন— কী নেই বিশ্বের দ্বিতীয় শক্তিধর এই রাষ্ট্রের। অথচ হাবুডুবু খাচ্ছে নিজের উঠোন ঘেঁষা কুঁড়েঘরের প্রতিবেশী ইউক্রেন!

যুদ্ধের শুরুতে মস্কোর ধারণা ছিল, দ্রুত সামরিক চাপ দিয়ে রাজনৈতিকভাবে ভেঙে দেওয়া সম্ভব হবে কিয়েভকে। কিন্তু বাস্তবতা হয়েছে ভিন্ন। চার আপদ জটলা পাকিয়ে পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছে রাশিয়ার সামনে— ভূরাজনীতি, জ্বালানি, অর্থনীতি ও বিশ্বশাসনের সমীকরণ। ইউক্রেন একা যুদ্ধ করছে না; তার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো-ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা কাঠামো এবং ৫০টির বেশি দেশের দুর্ধর্ষ সামরিক নেটওয়ার্ক।

রাশিয়াকে কাবু করতে ইউক্রেনকে সামরিক, অর্থনৈতিক, মানবিক ও শরণার্থী তহবিল মিলিয়ে ২০০ বিলিয়ন ইউরোর বেশি সহায়তা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং তার সদস্যরাষ্ট্রগুলো। এর অর্থ হলো, ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষমতা শুধু তার সেনাবাহিনীর ওপর দাঁড়িয়ে নেই; বরং ইউরোপীয় অর্থনীতির ওপরও। ইউক্রেনের মতো ঠুনকো দেশের সঙ্গে চার দিনের যুদ্ধকে আজ পাঁচ বছরের পথে নিয়ে যেতে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে এই সহায়তা। বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, দূরপাল্লার আর্টিলারি, ড্রোন, সাঁজোয়া যান, ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ, প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা সহায়তা কী দেয়নি ইউক্রেনকে? চলতি বছরই আরও দেড় লাখ ড্রোন দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাজ্য। ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী সক্ষমতা বাড়াতে চুক্তি করেছে জার্মানিও। ইউক্রেন ডিফেন্স কন্ট্রাক্ট গ্রুপ বা রামসটেইন কাঠামোর মাধ্যমে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা চাহিদা সমন্বয় করছে ৫০টির বেশি দেশ।

এখানেই বদলে গেছে যুদ্ধের চরিত্র। রাশিয়ার বড় সেনাবাহিনী, কিন্তু ইউক্রেনের কাছে বহুজাতিক অর্থ, ড্রোন, পশ্চিমা গোয়েন্দা সহায়তা, স্যাটেলাইট তথ্য, বিমান প্রতিরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমর্থন। ফলে কিছু ভূখণ্ড দখল করলেও দ্রুত কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি রাশিয়া। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, রাশিয়ার ব্যয়, জনবল ক্ষতি, অস্ত্রের চাপ, নিষেধাজ্ঞার প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ক্ষয় তত বাড়ছে। প্রথম তিন বছরেই গেছে ৫০০ বিলিয়ন ডলার। সব মিলে এখন ১ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতি। এটিই বড় শক্তির জন্য নতুন ফাঁদ— ছোট প্রতিপক্ষকে দ্রুত ভাঙতে না পারলে যুদ্ধ নিজেই হয়ে যায় বড় শক্তির বোঝা।

একই বাস্তবতা ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কেও। অর্থনীতি, জনসংখ্যা ও সামরিক শক্তিতে পাকিস্তানের চেয়ে অনেক বড় ভারত। সেনাবাহিনীতে সদস্য প্রায় ১৪ দশমিক ৫ লাখ। ২০২৬-২৭ প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় ৯৪ বিলিয়ন ডলার। উল্টোদিকে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী অর্ধেকেরও কম। প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার। বাজেটেও ৯ গুণ দূরে। ১০ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। অথচ কুপোকাত করে দিল ভারতকে। পারমাণবিক যুদ্ধের ভয়ে গায়ের যুদ্ধ থামাল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তত দিনে পাকিস্তান দেখিয়ে দিয়েছে, ছোট অর্থনীতির দেশ হয়েও বড় প্রতিপক্ষকে সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে চাপে ফেলা যায়। পাকিস্তানের এ জয়ের পেছনে ছিল চীন। দুদেশের দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্ক। সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে আঞ্চলিক ভূরাজনীতি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় পাকিস্তানের সামরিক আধুনিকীকরণে চীনের ভূমিকা বেশ বড়। ২০২০-২৪ সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে পাকিস্তানের অস্ত্র আমদানি। সবচেয়ে বড় অংশই চীন থেকে। যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, ফ্রিগেট, সাবমেরিন, সেন্সর ব্যবস্থা এবং আকাশযুদ্ধের সক্ষমতার বড় অংশই চীনের। ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধকে মূলত এই পরিবর্তনের বাস্তব পরীক্ষা হিসেবে দেখা হয়। চীনা জে-১০সি যুদ্ধবিমান এবং পিএল-১৫ দূরপাল্লার বিমান থেকে বিমানে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে পাকিস্তান। সে সময় এমন খবরই উঠে আসে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে। ফরাসি দানব ভারতের রাফায়েল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার মতো ঘটনায় তৈরি হয় বড় আলোড়ন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— এটি শুধু বিমান বনাম বিমান লড়াই ছিল না; এটি ছিল সেন্সর, ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা, গোয়েন্দা মূল্যায়নের লড়াই।

চীনা প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত যুদ্ধবিমানে প্রতিপক্ষের বিমানবাহিনীকে পাকিস্তান এমন দূরত্বে চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম হয়, যা ভারতের জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল। এখানে পাকিস্তানের সাফল্যের পেছনে শুধু পাইলটের দক্ষতা নয়; বরং চীনা অস্ত্র, ডেটা-লিংক ব্যবস্থা, সেন্সর সক্ষমতা এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিশ্চিতভাবে বলা যায়, পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ চীনা উৎস থেকে এসেছে এবং সেই সক্ষমতা ভারতের মতো বড় শক্তিকে সীমিত সংঘাতে অস্বস্তিতে ফেলেছে।

একই ধরনের অসম শক্তির বাস্তবতা দেখা যায় ইরানেও। যুক্তরাষ্ট্রের মতো সামরিক মহাশক্তি নয় ইরান। ১৫ থেকে ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সামরিক বাজেট। মাত্র ছয় লাখ সদস্যের সেনাবাহিনী। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৪ লাখ। তেহরানের শক্তিও তার প্রচলিত সেনাবাহিনীর আকারে নয়; তার শক্তি হলো ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ক, হরমুজ প্রণালির অবস্থান, নিষেধাজ্ঞা সহ্য করার অভিজ্ঞতা এবং চীন-রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক।

ইরান জানে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি প্রচলিত যুদ্ধে জেতা কঠিন। তাই ইরান যুদ্ধকে প্রচলিত সামরিক ময়দান থেকে সরিয়ে জ্বালানি বাজার, সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ, আঞ্চলিক ঘাঁটি, প্রক্সি সংঘাত, ড্রোন হামলা এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধের জায়গায় নিয়ে যায়। হরমুজ প্রণালি সেই কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্বের তেল পরিবহনের বড় অংশ এই পথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে ইরান যদি সেখানে উত্তেজনা তৈরি করে, তাহলে বিষয়টি শুধু যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত থাকে না; এটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের সংকটে পরিণত হয়। রাশিয়া-ইরান সম্পর্কও এই বাস্তবতাকে শক্ত করেছে। মস্কোর ভূমিকা ছিল সামরিক-রাজনৈতিক। ২০২৫ সালে ২০ বছরের কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি করেছে রাশিয়া ও ইরান। এই চুক্তিতে সামরিক-প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, যৌথ মহড়া, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয় রয়েছে। ন্যাটো-ধাঁচের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নয়— অর্থাৎ ইরান আক্রান্ত হলে রাশিয়া বাধ্যতামূলক যুদ্ধে নামবে— এমন নয়। কিন্তু এই সম্পর্ক ইরানকে কূটনৈতিক গভীরতা, প্রযুক্তিগত সুযোগ এবং পশ্চিমা চাপ মোকাবিলার একটি নিরাপত্তা পরিসর দেয়।

চীনের সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল অর্থনৈতিক। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরানের প্রধান তেল ক্রেতা হিসেবে রয়ে গেছে চীন। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সমুদ্রপথে রপ্তানি করা তেলের ৮০ শতাংশের বেশি কিনেছে চীন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল ইরানি তেল গেছে চীনে। এই তেল বিক্রির অর্থ ইরানের রাষ্ট্রীয় বাজেট, নিরাপত্তা কাঠামো এবং আঞ্চলিক প্রভাব ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ চীন সরাসরি যুদ্ধে না নেমেও ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বাঁচিয়ে রাখার বড় পথ খুলে রেখেছে।

দ্বিতীয় ভূমিকা ছিল কূটনৈতিক। বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপের বিরোধিতা করেছে চীন। সব মিলিয়ে বড় শক্তিগুলো ছোট প্রতিপক্ষের কাছে আটকে যাচ্ছে। কারণ, ছোট রাষ্ট্রগুলো এখন আর একা নয়। মাথায় থাকে মহাশক্তির ছায়া। যুদ্ধের ফল এখন আর শুধু জিডিপি আর সেনা-অস্ত্রে সীমাবদ্ধ নেই। ভূগোল, খনিজ-জ্বালানিতে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে যুদ্ধের কূটনীতি। মোটকথা, ছোট রাষ্ট্র মানেই আর দুর্বল নয় কেউ; দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে সে পরাশক্তিরও রাজা।



পরাশক্তিযুদ্ধপারমাণবিক অস্ত্র
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    শেখ হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে অন্তরালে আলোচনা

    শেখ হাসিনাকে ফেরানো নিয়ে অন্তরালে আলোচনা

    ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩৪

    তীব্র দাবদাহে এসি মিস্ত্রিদের দম ফেলার ফুরসত নেই

    তীব্র দাবদাহে এসি মিস্ত্রিদের দম ফেলার ফুরসত নেই

    ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৯

    বর্ষা শেষে ফ্রিজ ডিটক্স

    বর্ষা শেষে ফ্রিজ ডিটক্স

    ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০০

    শেয়ারদর বাড়াতে বিনিয়োগকারীদের চাপে কোরিয়ার দুই চিপ নির্মাতা

    শেয়ারদর বাড়াতে বিনিয়োগকারীদের চাপে কোরিয়ার দুই চিপ নির্মাতা

    ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪৮

    ব্রিটিশ জেল খালি করতে বিদেশে বন্দি পাঠানোর প্রস্তাবে অ্যামনেস্টির আপত্তি

    ব্রিটিশ জেল খালি করতে বিদেশে বন্দি পাঠানোর প্রস্তাবে অ্যামনেস্টির আপত্তি

    ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৯

    এআই আতঙ্কে মার্কিন ভোটার, নির্বিকার ট্রাম্প

    এআই আতঙ্কে মার্কিন ভোটার, নির্বিকার ট্রাম্প

    ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১৩

    কেন্দ্রীয় নেত্রীর পর্নোগ্রাফি মামলায় ছাত্রদল নেতার সঙ্গে সাংবাদিকও আটক

    কেন্দ্রীয় নেত্রীর পর্নোগ্রাফি মামলায় ছাত্রদল নেতার সঙ্গে সাংবাদিকও আটক

    ১১ আগস্ট ২০২৬, ২১:০২

    ‘সেক্রেটারি হতে ৫০ লাখ খরচ করছি’—বিএনপি নেতার ফোনালাপ ফাঁস

    ‘সেক্রেটারি হতে ৫০ লাখ খরচ করছি’—বিএনপি নেতার ফোনালাপ ফাঁস

    ১১ আগস্ট ২০২৬, ২০:০৯

    মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর ও অজিত দোভালের পরপর দুই বৈঠক

    মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর ও অজিত দোভালের পরপর দুই বৈঠক

    ১১ আগস্ট ২০২৬, ২১:০০

    ঢাকায় বৃষ্টির শঙ্কা, মৃদু তাপপ্রবাহের আভাস তিন বিভাগে

    ঢাকায় বৃষ্টির শঙ্কা, মৃদু তাপপ্রবাহের আভাস তিন বিভাগে

    ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৪

    জামিনে মুক্ত মাদক মামলার আসামিকে ফুল দি‌য়ে বরণ বিএনপি নেতার

    জামিনে মুক্ত মাদক মামলার আসামিকে ফুল দি‌য়ে বরণ বিএনপি নেতার

    ১১ আগস্ট ২০২৬, ২২:২০

    প্রথম তীর্থের ঘরে টিভি, দ্বিতীয় ইরফানের পুরস্কার এসি

    প্রথম তীর্থের ঘরে টিভি, দ্বিতীয় ইরফানের পুরস্কার এসি

    ১১ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৬

    কুয়াকাটায় জেলেদের জালে বিরল ‘বক্স ক্রাব’

    কুয়াকাটায় জেলেদের জালে বিরল ‘বক্স ক্রাব’

    ১১ আগস্ট ২০২৬, ২২:৪৬

    চাঁদা নিয়ে দ্বন্দ্ব, শিক্ষার্থীদের ওপর যুবদলের হামলা

    চাঁদা নিয়ে দ্বন্দ্ব, শিক্ষার্থীদের ওপর যুবদলের হামলা

    ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৩:১৪

    এআইইউবি ও রাশিয়ান হাউসের একাডেমিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা

    এআইইউবি ও রাশিয়ান হাউসের একাডেমিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা

    ১১ আগস্ট ২০২৬, ২২:৫৭

    advertiseadvertise