হরমুজে দক্ষিণ কোরিয়া সেনা পাঠাবে কি না, জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সামরিক বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়া এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। ওয়াশিংটন সফরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন।
আজ বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন বলেছেন, ‘আমাদের অবস্থান আগের মতোই স্পষ্ট। এই বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আমরা সব বিষয় গভীরভাবে বিবেচনা করে দেখছি।’
অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত নানা দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা করতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে এদিন সকাল ১১টায় সিউল ছেড়ে যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন।
দেশ ত্যাগের আগে বিমানবন্দরে চো হিউন বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সামরিক বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালিতে স্বাধীন নৌচলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন জানাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে সিউলকে চাপের মধ্যে রেখেছেন। এমনকি এই সহায়তার ভিত্তিতে যৌথ সামরিক মহড়ার পরিধি কমিয়ে আনার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে এই যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়া অংশ নিলে তার পরিণতি খুবই খারাপ হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছে ইরান।
আগামীকাল শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ওয়াশিংটনে বৈঠক করার কথা রয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউনের। বৈঠকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।
জাহাজ ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠানের বরাত দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গতকাল বুধবার এই প্রণালি অতিক্রম করেছে মাত্র ৩টি পণ্যবাহী জাহাজ।
এর আগের দিন মঙ্গলবারেও এই পথ দিয়ে ১২টি জাহাজ পারাপার হয়েছিল। আর গত ১০ দিনের গড় হিসাব অনুযায়ী প্রতিদিন যেখানে প্রায় ১৭টি জাহাজ চলাচল করছিল, সেই তুলনায় বুধবারের এই সংখ্যা অত্যন্ত কম।
তবে রাডার এড়াতে বা শনাক্তকরণ এড়াতে যেসব জাহাজ নিজেদের অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম (এআইএস) ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে জলসীমা অতিক্রম করে থাকতে পারে, সেগুলোকে এই হিসাবের আওতায় রাখা হয়নি।
সূত্র : আলজাজিরা




