জাপানি নাগরিকদের জন্য চীনের ভিসা ফি সাড়ে ৭ গুণ বাড়ছে

জাপানে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের কনস্যুলার বিভাগ গত ১১ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেয়।
জাপানি নাগরিকদের জন্য ভিসা ইস্যু ফি ব্যাপকভাবে বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে চীন। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে জাপানে চীনের ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন ফি কার্যকর হবে। চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাপানের ভিসা ফি বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ‘পারস্পরিকতার নীতি’ অনুসরণ করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাপানে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের কনস্যুলার বিভাগ গত ১১ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একবার প্রবেশের (সিঙ্গেল এন্ট্রি) চীনা ভিসার ফি ২ হাজার ২৫০ ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ১৬ হাজার ৭৫০ ইয়েন করা হচ্ছে। অর্থাৎ ফি প্রায় সাড়ে ৭ গুণ বাড়ছে।
এ ছাড়া ডাবল এন্ট্রি ভিসার ফি ৩ হাজার ৭৫০ ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার ১০০ ইয়েন, ছয় মাস মেয়াদি মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার ফি ৪ হাজার ৫০০ ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৩৩ হাজার ৫০০ ইয়েন এবং এক বছর মেয়াদি মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার ফি ৭ হাজার ৫০০ ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার ২৫০ ইয়েন করা হয়েছে।
চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, ১৪ সেপ্টেম্বরের আগে যেসব ভিসা আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে পুরোনো ফি প্রযোজ্য হবে।
ভিসা ফি বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তকে জাপানের সাম্প্রতিক ভিসা ফি বৃদ্ধির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে জাপান বিদেশি নাগরিকদের ভিসা ফি বাড়িয়েছে। চীনা নাগরিকদের ক্ষেত্রেও নতুন ফি প্রযোজ্য হয়েছে।
চীনা নাগরিকদের জন্য জাপানের ভিসা ফি বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতেই চীন জাপানি নাগরিকদের জন্য নতুন ফি নির্ধারণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চীনের পক্ষ থেকেও সিদ্ধান্তটির কারণ হিসেবে সরাসরি ‘পারস্পরিকতার নীতি’র কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আপাতত এ সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রভাব সীমিত থাকতে পারে। কারণ, স্বল্পমেয়াদি পর্যটন, ব্যবসা ও অন্যান্য সফরের ক্ষেত্রে জাপানি নাগরিকদের জন্য চীনে ভিসা-মুক্ত প্রবেশের ব্যবস্থা বর্তমানে চালু রয়েছে। এই সুবিধা চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা রয়েছে।
তবে বছরের শেষে ভিসা-মুক্ত প্রবেশের মেয়াদ আর বাড়ানো না হলে নতুন ভিসা ফি জাপানি পর্যটক, ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য ভ্রমণকারীদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক প্রভাব ফেলতে পারে।
ভিসা নীতি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে জাপান ও চীনের মধ্যে পারস্পরিক নীতি পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় বেইজিংয়ের এই সিদ্ধান্তকে সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



