মস্তিষ্কের কোষে চালিত বিশ্বের প্রথম ডেটা সেন্টার চালু করল সিঙ্গাপুর

সংগৃহীত ছবি
সিঙ্গাপুরে এমন এক ‘ডেটা সেন্টার’ চালু হয়েছে, যেখানে কম্পিউটিংয়ের কাজ করছে জীবন্ত মানুষের মস্তিষ্কের কোষ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সিঙ্গাপুরের মেডিকেল স্কুল জানিয়েছে, এটিই বিশ্বের প্রথম স্বাধীনভাবে পরিচালিত এমন ডেটা সেন্টার। প্রচলিত কম্পিউটিং হার্ডওয়্যারের তুলনায় এর বিদ্যুৎ খরচও খুব কম। প্রতি তিন দিন পরপর স্নায়ুকোষগুলোকে খাবার দেওয়া হয় এবং বিশেষ জীবনধারণ সহায়ক যন্ত্রের মাধ্যমে সেগুলো সচল রাখা হয়।
এনইউএস মেডিসিন চলতি মাসের শুরুতে সিঙ্গাপুরভিত্তিক তথ্যকেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডেইওয়ান এবং অস্ট্রেলিয়ার জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কর্টিক্যাল ল্যাবসের সঙ্গে অংশীদারত্বে এই পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে স্থাপিত এই ব্যবস্থাকে এর নির্মাতারা বিশ্বের প্রথম স্বাধীনভাবে পরিচালিত জৈবিকভাবে সমন্বিত সার্ভার র্যাক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এই স্থাপনায় ২০টি সিএল১ জৈবিক কম্পিউটার রয়েছে। প্রতিটিতে তড়িৎদ্বারযুক্ত একটি সিলিকন চিপের ওপর পরীক্ষাগারে উৎপাদিত অন্তত ২ লাখ মানুষের স্নায়ুকোষ রয়েছে। রক্তকোষকে পুনঃপ্রোগ্রাম করে স্টেম কোষে পরিণত করার মাধ্যমে এসব স্নায়ুকোষ তৈরি করা হয়েছে। এগুলো প্রচলিত যন্ত্রপাতির সঙ্গে বৈদ্যুতিক সংকেত আদান-প্রদান করে এবং তাদের কার্যক্রমকে কম্পিউটিং ক্ষমতায় রূপান্তর করে।
কর্টিক্যাল ল্যাবসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হন ওয়েং চং বলেছেন, এই পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা জৈবিক কম্পিউটিংকে ‘গবেষণাগার থেকে বাণিজ্যিক প্রয়োগের পর্যায়ে’ নিয়ে যাচ্ছে। তার মতে, যেখানে ‘তথ্য সীমিত’ এবং পরিস্থিতি দ্রুত বদলায়, সেখানে এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিপূরক হতে পারে। ওষুধ উদ্ভাবন, মানবসদৃশ রোবট, সাইবার নিরাপত্তা এবং প্রতারণা শনাক্তকরণে এর সম্ভাব্য ব্যবহার রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
বিদ্যুৎনির্ভর সার্ভার ও শীতলীকরণ ব্যবস্থায় ঠাসা প্রচলিত তথ্যকেন্দ্রগুলোর বিপরীতে, জৈবিক কম্পিউটার জীবন্ত স্নায়ু নেটওয়ার্কের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে খুব সামান্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করে কাজ করতে পারে।
এই ‘কম্পিউটারগুলো’ সচল রাখার কাজও সার্ভার কক্ষের চেয়ে বরং গবেষণাগার পরিচালনার মতো। প্রতি তিন দিন পরপর প্রযুক্তিবিদেরা কোষগুলোকে চিনি, ক্ষুদ্র পুষ্টি উপাদান ও পিএইচ নিয়ন্ত্রক পদার্থের মিশ্রণ খাওয়ান। পাশাপাশি একটি গ্যাস ব্যবস্থা কার্বন ডাই-অক্সাইড, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন সরবরাহ করে।
চংয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জীবনধারণ সহায়ক যন্ত্রপাতিসহ প্রতিটি সিএল১ কম্পিউটার প্রায় ৩০ ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। তুলনায় এনভিডিয়ার এইচ১০০ এসএক্সএম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রসেসর ভারী কাজের সময় সর্বোচ্চ ৭০০ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে। এমন আটটি চিপযুক্ত একটি সার্ভার সহায়ক যন্ত্রপাতিসহ প্রায় ১০ হাজার ২০০ ওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে।
বিদ্যুৎ ব্যবহারের এই পার্থক্য সিঙ্গাপুরের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগের কারণে ২০১৯ সালে দেশটি সাময়িকভাবে নতুন তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধ রেখেছিল। ২০২০ সালে দেশটির মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রায় ৭ শতাংশ তথ্যকেন্দ্রগুলোতে ব্যয় হয়েছিল।
তবে এই প্রযুক্তি সিলিকনভিত্তিক কম্পিউটারকে প্রতিস্থাপনের জন্য তৈরি নয়। চং বলেছেন, চ্যাটজিপিটির মতো বৃহৎ ভাষা মডেলের পেছনে থাকা দ্রুত ও বারবার করা যায় এমন গণনার ক্ষেত্রে সিলিকন এখনো ‘অনেক বেশি কার্যকর’। তবে জৈবিক ব্যবস্থা তুলনামূলক কম উদাহরণ থেকে শিখতে পারে এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে।
সূত্র: আরটি







