ফিলিপাইনের ফেরিতে আগুনে নিহত বেড়ে ৩৫

ফিলিপাইনের পালাওয়ান উপকূলে আগুনে পুড়ে যাওয়া এমভি জুন অ্যাস্টার ফেরিতে উদ্ধারকর্মীদের প্রবেশের দৃশ্য ড্রোনে দেখা যাচ্ছে। ছবি: রয়টার্স
ফিলিপাইনের পালাওয়ান উপকূলে আগুনে পুড়ে যাওয়া ফেরি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আরও বেশ কয়েকটি মরদেহ। এতে দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ জনে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৫০ জনের বেশি। গতকাল শুক্রবার দেশটির কোস্ট গার্ড জানিয়েছে এ তথ্য।
ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ফেরিটির ধ্বংসাবশেষ থেকে ৩০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা এখন ৩৫।
এর আগে গত বুধবার রাজধানী ম্যানিলা থেকে পর্যটনকেন্দ্র করোনের উদ্দেশে যাত্রা করে এমভি জুন অ্যাস্টার। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে ফেরিটিতে ধরে যায় আগুন।
ফেরিটিতে ছিলেন ১১৭ জন যাত্রী ও ১৭ জন ক্রু। আগুন লাগার পর উদ্ধার করা হয়েছে ৪৩ জনকে। তাদের অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
তবে এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি ৫০ জনের বেশি মানুষের। তাদের খোঁজে চলছে উদ্ধার অভিযান।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ফেরিটির ভেতরে থাকতে পারে আরও মরদেহ। বিষাক্ত ধোঁয়া ও প্রচণ্ড তাপের কারণে গতকাল শুক্রবারের আগে ফেরিটিতে উঠতে পারেননি উদ্ধারকারীরা।
দেশটির কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র কমোডর নোয়েমি কায়াবায়াব এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, বেশির ভাগ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে ফেরিটির ঘুমানোর জায়গা থেকে। ফেরিটি ছিল ২২ ঘণ্টার যাত্রায়।
‘উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর যথাযথ প্রক্রিয়ায় শনাক্তকরণ ও হস্তান্তরের কাজ চলছে’, জানান কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র কমোডর নোয়েমি কায়াবায়াব।
এর আগে বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের সঙ্গে প্রাথমিক কথোপকথনের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড জানিয়েছিল, ফেরিটির কার্গো হোল্ড থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। আগুন লাগার সময় কিছু যাত্রী লাইফ জ্যাকেট পরা ছিলেন না বলেও জানানো হয়।
একজন বেঁচে যাওয়া যাত্রী বিবিসিকে জানান, আগুন লাগার পর ফেরির ভেতর থেকে আতঙ্কিত মানুষের চিৎকার শুনতে পান তিনি। বের হওয়ার চেষ্টা করার সময় আতঙ্কিত মানুষের ভিড়ে পদদলিতও হন তিনি।
ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে ফিলিপাইনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।




