দক্ষিণ কোরিয়ায় বদলে যাচ্ছে সৌন্দর্যচর্চার ধরন
- ক্লিনিকের লেজার সার্ভিস পাচ্ছে প্রাধান্য

ছবি: রয়টার্স
বিশ্ব জুড়ে যখন শিট মাস্ক, বিবি ক্রিম আর ১০ ধাপের দীর্ঘ স্কিনকেয়ার রুটিন নিয়ে মেতে আছেন সৌন্দর্যপ্রেমীরা, তখন খোদ দক্ষিণ কোরিয়ায় বদলে গেছে এই প্রথাগত সৌন্দর্যচর্চার ধারণা। এখন সাধারণ প্রসাধনী বা স্কিনকেয়ার পণ্যের দোকানের গণ্ডি পেরিয়ে কে-বিউটি স্থান করে নিয়েছে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও এস্থেটিক ক্লিনিকগুলোয়। দক্ষিণ কোরিয়ায় এখন লেজার ট্রিটমেন্ট কিংবা স্কিন বুস্টার নেওয়া সেলুন থেকে চুল বা নখ কাটার মতোই অতি সাধারণ এক দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি ‘দ্য কোরিয়া টাইমস’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কোরিয়ানদের এই পরিবর্তিত রূপচর্চা ও কে-বিউটির নতুন মাত্রার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কোরিয়ানদের আড্ডায় বা বন্ধুদের সামাজিক কথোপকথনে এখন প্রসাধনীর নাম বা ব্র্যান্ডের আলোচনার চেয়ে প্রাধান্য পাচ্ছে ক্লিনিকের লেজার সার্ভিস, কোলাজেন বুস্টিং ও পোর ট্রিটমেন্টের তুলনা। সাধারণ মানুষের কাছে এসব মেডিকেল প্রযুক্তি নিয়ে চর্চা এতটাই সাবলীল হয়ে উঠেছে যে, নন-মেডিকেল ব্যক্তিরাও খুব সহজে থার্মাজ, উলথেরা কিংবা ওলিজিওর মতো অতি-আধুনিক আল্ট্রাসাউন্ড ও রেডিওফ্রিকোয়েন্সি প্রযুক্তির গুণাগুণ নিয়ে নিজস্ব মতামত বিনিময় করছেন। সৌন্দর্যচর্চাকে এখন আর সাময়িক কোনো বিলাসী বিষয় নয়, বরং দাঁত ও মেদ সুরক্ষার মতো দৈনন্দিন ‘মেইনটেন্যান্স’ বা যত্ন হিসেবে নিচ্ছেন স্থানীয়রা।
এই নাটকীয় পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হলো চিকিৎসা প্রযুক্তি ও চিকিৎসার সুনির্দিষ্ট সহজলভ্য মূল্য। রাজধানী সিউলের গ্যাংনাম বা আপগুজং অঞ্চলের একেকটি ভবন জুড়ে গড়ে উঠেছে আধুনিক ডার্মাটোলজি ও এস্থেটিক ক্লিনিক। অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে সেবা পাওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রতি কয়েক মাস পরপরই এসব ক্লিনিকে গিয়ে ত্বকের যত্ন বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারছেন। ফলে বিদেশের বাজারে এখনো পণ্য হিসেবে কে-বিউটি জনপ্রিয় হলেও, কোরিয়ানদের কাছে এটি এখন সরাসরি আধুনিক চর্মবিজ্ঞানের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক নিয়মিত লাইফস্টাইল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কে-বিউটির এই রূপান্তর শুধু প্রসাধনী বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা পুরো চিকিৎসা-সৌন্দর্য পর্যটনশিল্পের এক বিশাল বাজার তৈরি করেছে। সৌন্দর্য ধরে রাখা শুধু কোনো অলৌকিক ক্রিমের ওপর নির্ভর করে না, বরং প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যকর চর্চাই এর মূল চাবিকাঠি—এই নতুন দর্শনের ওপর ভিত্তি করেই কে-বিউটি বৈশ্বিক সৌন্দর্য মানচিত্রে নিজেদের দ্বিতীয় ধাপের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।




