মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের বৈঠক

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আর্থিক সহযোগিতা আরও জোরদারে গুরুত্ব দিয়ে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী।
মালয়েশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়ে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও আর্থিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে অগ্রগতি, দুই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা, ইসলামী অর্থায়ন, অর্থপাচার প্রতিরোধ এবং পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় আসে।
এছাড়া হালাল শিল্পে অর্থায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ এবং মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান খাজানাহ-র সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশের প্রস্তাবিত একটি ফান্ডে মালয়েশিয়ার কৌশলগত বিনিয়োগের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়া বা ফেরত পাঠানো বাংলাদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়ার ব্যাংক হিসাবে থাকা অবশিষ্ট অর্থ উত্তোলনের বিষয়টিও উত্থাপন করেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার। এ অর্থ সহজে উত্তোলনের ব্যবস্থা করতে মালয়েশিয়া সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
আলোচনায় উভয় পক্ষ বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি অর্থায়ন, বিনিয়োগ ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে পারস্পরিকভাবে লাভজনক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতিকে স্বাগত জানান। তিনি বৈঠকে আলোচিত বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে তার আগ্রহের কথা জানান।
বৈঠকে মালয়েশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, রয়্যাল মালয়েশিয়ান কাস্টমস বিভাগের প্রতিনিধিরা এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের উপ-হাইকমিশনার, প্রথম সচিব (বাণিজ্য) ও তৃতীয় সচিব (রাজনৈতিক)সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, আর্থিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে এ বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।




