থাই-মিয়ানমার বার্ষিক সামরিক আলোচনায় প্রাধান্য সীমান্ত যুদ্ধ

সংগৃহীত ছবি
ব্যাংককে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ৯ম থাইল্যান্ড-মিয়ানমার হাই লেভেল কমিটির বৈঠক। সেখানে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়ে উইন উ এবং থাই সেনাপ্রধান জেনারেল উক্রিস বুনতানোন্দ। বৈঠকে সীমান্ত স্থিতিশীলতা, সাইবার অপরাধ দমন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
বেসামরিকদের বিরুদ্ধে হত্যাযজ্ঞ ও সহিংসতা বৃদ্ধির জন্য সমালোচিত মিয়ানমারের সেনাপ্রধান। গত মার্চে তার হাতে দায়িত্ব তুলে দেন জান্তা প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং। এই বিতর্কিত জেনারেলকে সান্ধ্যকালীন বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোয় থাই সামরিক বাহিনীর তীব্র সমালোচনা করেছে দেশটির রাজনীতিবিদ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। ২০২১ সালে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার অপরাধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছেন ইয়ে উইন ও।
দুই প্রতিবেশী দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে কয়েক দশক ধরেই সুসম্পর্ক বিদ্যমান। সামরিক প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা, গোয়েন্দা সংস্থা এবং নজরদারি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণের জন্য মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের নিয়মিত থাইল্যান্ডে পাঠানো হয়।
বুধবারের বৈঠকে জেনারেল উক্রিস মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ সুবিধা অব্যাহত রাখার কথা নিশ্চিত করেন। মিয়ানমার ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধি কো নাউং ইয়ো সংবাদ মাধ্যম দ্য ইরাবতীকে জানান, ‘যৌথ স্টাফ কোর্সগুলোতে মিয়ানমারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত বিষয় শেখানো হয়।’
তিনি স্পষ্ট করেন, এগুলো স্বাভাবিক সামরিক সহযোগিতার অংশ। মিয়ানমারের প্রতিরোধ আন্দোলনের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, সীমান্ত অঞ্চলে মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড উভয় বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সরবরাহ লাইন বন্ধ করে দেওয়ায় তারা প্রচণ্ড চাপে পড়েছে। কারেন্নি রাজ্য অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাহী পরিষদের বানিয়ার খিয়াং অং বলেন, ‘এই বৈঠকের সুনির্দিষ্ট প্রভাব এখনো স্পষ্ট নয়, তবে দুই দেশের সামরিক চাপ আরও বাড়তে পারে। থাইল্যান্ড শুধু নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়, আর মিয়ানমার সামরিক জান্তা কোনো কিছুরই পরোয়া করে না।’
মিয়ানমার সামরিক জান্তার পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে পরিবেশ দূষণ রোধ, মাদক পাচার প্রতিরোধ, মানবিক সাহায্য ও ত্রাণ কার্যক্রম এবং দুই দেশের সামরিক বিনিময় বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রথাগতভাবে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী তাদের কর্মকর্তাদের নেতৃত্ব, কমান্ড, মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাভিয়েশন এবং অস্ত্র ব্যবস্থার প্রশিক্ষণের জন্য রাশিয়া, চীন, ভারত ও পাকিস্তানে পাঠায়।
উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ছাড়াও দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করে জয়েন্ট বাউন্ডারি কমিটি। এর বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা নিয়মিত উপজেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ে বৈঠক করেন।







