পর্যটকদের জন্য নিয়ম আরও কঠোর করছে থাইল্যান্ড

ছবি: রয়টার্স
পর্যটকদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশের নিয়ম আরও কঠোর করতে যাচ্ছে থাইল্যান্ড। এর মধ্যে রয়েছে অবস্থানের মেয়াদ কমানো এবং যোগ্য দেশের সংখ্যা হ্রাসের পরিকল্পনা। মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার অনুমোদিত এক পর্যালোচনার পর এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা।
এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য থাইল্যান্ডে মহামারীর আগে ২০১৯ সালে প্রায় ৪ কোটি পর্যটক গিয়েছিলেন। পর্যটন খাত দেশটির অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি।
পর্যালোচনার পর ৯৩টি দেশের জন্য চালু থাকা ৬০ দিনের ভিসামুক্ত সুবিধা বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলারবিষয়ক বিভাগের মহাপরিচালক মুঙ্কর্ন প্রাতুমকাও।
তিনি বলেছেন, ৩০ দিনের ভিসামুক্ত সুবিধা বহাল থাকবে। তবে এ সুবিধাপ্রাপ্ত দেশ বা অঞ্চলের সংখ্যা ৫৭ থেকে কমিয়ে ৫৪ করা হবে। কোন তিনটি দেশ বাদ পড়ছে, তা উল্লেখ করেননি তিনি।
মুঙ্কর্ন জানান, পারস্পরিক সুবিধা, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ এবং নীতিগত জটিলতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় এনে এ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, একাধিক ভিসামুক্ত সুবিধা চালু থাকায় পর্যটকদের মধ্যে তৈরি হচ্ছিল বিভ্রান্তি।
দেশটির সরকারি গেজেটে ঘোষণা প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।
২০২৪ সালে থাইল্যান্ড ৬০ দিনের ভিসামুক্ত সুবিধা চালু করেছিল পর্যটন বাড়ানো ও অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার লক্ষ্যে। তখন যোগ্য দেশের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল এবং দীর্ঘ সময় অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যাতে পর্যটন খাত থেকে আরও আয় করা যায়।
তবে কর্তৃপক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের সুযোগের অপব্যবহার হচ্ছে এবং অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছেন কিছু বিদেশি।
মঙ্গলবার পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ মে পর্যন্ত সময়ে দেশটিতে আগত পর্যটকের সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে নেমে এসেছে ১ কোটি ২৯ লাখে।
রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে থাইল্যান্ডে ৩ কোটি ২০ লাখ বিদেশি পর্যটক আসতে পারেন, যা গত বছরের প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখের তুলনায় কম।




