নেপালের বন্যায় পশুপাখির ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব নেই
- দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার আহ্বান

সাম্প্রতিক বন্যার ভয়াবহতায় অনেক এলাকা সম্পূর্ণভাবে প্লাবিত ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় পশুপাখির ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় বিপুলসংখ্যক মানুষ ও পশুপাখি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রাণীদের মৃত্যুর সঠিক কোনো পরিসংখ্যান এখনো পাওয়া যায়নি। পশু কল্যাণ সংস্থা ক্যাট সেন্টার, নেপাল-এর এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বন্যার ভয়াবহতায় অনেক এলাকা সম্পূর্ণভাবে প্লাবিত ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় পশুপাখির ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
ক্যাট সেন্টারের প্রতিনিধি জানান, বন্যার দ্বিতীয় দিন থেকেই বিভিন্ন পশু কল্যাণ সংস্থার সঙ্গে তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেন। তবে অন্যান্য দুর্যোগের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। অনেক এলাকায় মানুষ ও পশুপাখির কোনো চিহ্নই পাওয়া যায়নি; পুরো গ্রাম ও শহরের অংশবিশেষ পানিতে ভেসে গেছে।
মাঠপর্যায়ের অভিযানে প্রথম দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে উদ্ধার করা প্রায় ছয়টি গবাদিপশু এবং দুই-তিনটি কুকুরের চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে দেবীঘাট এলাকায় প্রায় ছয়-সাতটি মৃত গবাদিপশু এবং দুই-তিনটি মৃত শুকর দেখতে পান উদ্ধারকারীরা। এসব প্রাণীর গলায় দড়ি বাঁধা থাকায় তারা বন্যার পানি থেকে পালাতে পারেনি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
ক্যাট সেন্টার জানায়, বন্যার পর মৃত পশুপাখি ব্যবস্থাপনা বড় একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি কার্যপ্রণালি তৈরি করা হয়। সেই অনুযায়ী মৃত প্রাণীগুলোকে চার থেকে পাঁচ ফুট গভীর গর্তে পুঁতে ফেলা এবং জীবাণুনাশক ব্যবহার করে নিরাপদভাবে ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে।
সংস্থাটির মতে, এখন সবচেয়ে জরুরি হলো দুর্গম এলাকায় থাকা গবাদিপশু, কুকুর ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য খাবার, পুষ্টি-উপকরণ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দেওয়া। বিশেষ করে স্যাব্রুবেসি ও তিমুরসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সড়ক যোগাযোগ চালু হলে আবারও উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ক্যাট সেন্টার জানিয়েছে, তারা অ্যানিম্যাল নেপাল-এর সঙ্গে সমন্বয় করে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা অব্যাহত রাখবে। শুধু জরুরি ত্রাণ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত প্রাণীদের পুনর্বাসন, চিকিৎসা এবং মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। সংস্থাটির ভাষ্য, এই সংকট এক সপ্তাহের ত্রাণ কার্যক্রমে শেষ হওয়ার নয়; পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিতভাবে এলাকায় গিয়ে প্রাণীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।



