গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য
কোরিয়ায় কমছে কিমচির জনপ্রিয়তা

কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘কিমচি’।
বিশ্বজুড়ে কে ফুডের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘কিমচি’র চাহিদাও তুঙ্গে। তবে অদ্ভুত বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিমচির কদর বাড়লেও নিজ দেশ দক্ষিণ কোরিয়াতেই দিন দিন কিমচি খাওয়ার প্রবণতা কমছে।
সম্প্রতি চুং-আং ইউনিভার্সিটি, জেজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ওয়ার্ল্ড ইনস্টিটিউট অব কিমচির যৌথ এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।
‘দ্য কোরিয়া টাইমস’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পরিচালিত ‘কোরিয়া ন্যাশনাল হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন এক্সামিনেশন সার্ভে’র তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণার ফলে দেখা যায়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত একবারও কিমচি খায়নি এমন কোরিয়ানদের হার ২০১০ সালে ছিল ১১.৭ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২.৭ শতাংশে। অর্থাৎ, প্রায় দ্বিগুণ মানুষ এখন আর নিয়মিত কিমচি খাচ্ছেন না।
নারী ও পুরুষ উভয় পক্ষেই এই পরিবর্তন স্পষ্ট। পুরুষের ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টায় কিমচি না খাওয়ার হার ১০.২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০.৬ শতাংশ এবং নারীদের ক্ষেত্রে ১৩.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৪.৮ শতাংশ হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অর্থাৎ ২০ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের মধ্যে পাত্তর বা সাইড ডিশ হিসেবে সরাসরি কিমচি খাওয়ার হার কমেছে সবচেয়ে বেশি। ২০১০ সালে এই বয়সের ৮২ শতাংশ মানুষ নিয়মিত সাইড ডিশ হিসেবে কিমচি খেলেও ২০২৪ সালে তা কমে ৬৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
তবে এই পরিবর্তনের মূল কারণ হলো খাদ্যাভ্যাসের ধরন বদলে যাওয়া। কোরিয়ানরা এখন সাইড ডিশ হিসেবে সরাসরি কাঁচা কিমচি খাওয়ার চেয়ে এটি দিয়ে রান্না করা খাবার, যেমন কিমচি জিগে (কিমচির স্টু) বা ফ্রাইড রাইসের মতো অন্যান্য পদ খেতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, উচ্চ আয়ের গোষ্ঠীর তুলনায় নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্যাভ্যাসে এখনো কিমচির উপস্থিতির হার কিছুটা বেশি।
গবেষকদের মতে, এই প্রবণতা কোরিয়ানদের সার্বিক খাদ্য তালিকায় পরিবর্তনের নির্দেশক। স্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিষয়ক রাষ্ট্রীয় কৌশল বাস্তবায়নে এখন কেবল ঐতিহ্যবাহী কিমচি প্রচারের বদলে আরও সুষম খাদ্য তালিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।




