সন্ত্রাসবিরোধী মহড়ার ছবি নিয়ে বিতর্ক, সরিয়ে নিল জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সংগৃহীত ছবি
সন্ত্রাসবিরোধী প্রশিক্ষণের সময় ‘সন্ত্রাসীর’ ভূমিকায় থাকা ব্যক্তির পোশাক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার পর একটি ছবি সরিয়ে নিয়েছে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ছবির পোশাককে মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের প্রচলিত পোশাকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এতে নির্দিষ্ট কোনো ধর্ম বা জনগোষ্ঠী সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।
১০ সেপ্টেম্বর টোকিওর একটি সরকারি স্থাপনায় একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। বিদেশে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা ও জাপানি নাগরিক অপহরণের মতো পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে, সে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এ মহড়ার আয়োজন করা হয়।
প্রশিক্ষণের ছবি জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশ করেছিল। সেখানে একজন ‘সন্ত্রাসী’র ভূমিকায় থাকা ব্যক্তিকে মাথায় স্কার্ফজাতীয় কাপড় পরা অবস্থায় দেখা যায়। ছবিতে তাকে একজন ‘জিম্মি’র মাথায় একটি ব্যাগ পরিয়ে দিতে দেখা যায়।
ছবিটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। কেউ কেউ পোশাকটিকে আরব অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী স্কার্ফের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, এ ধরনের উপস্থাপনায় সন্ত্রাসবাদকে একটি নির্দিষ্ট জাতি বা ধর্মের সঙ্গে যুক্ত করার ঝুঁকি রয়েছে। তবে অন্যদিকে কেউ কেউ প্রশিক্ষণটিকে বাস্তব পরিস্থিতির কাছাকাছি করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেছেন।
সমালোচনার পর ১৫ সেপ্টেম্বর জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, প্রশিক্ষণে ‘সন্ত্রাসী’র ভূমিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে জাপানি ও বিদেশি নাগরিক উভয়ই ছিলেন। তাদের পোশাকসহ পুরো উপস্থাপনায় কোনো নির্দিষ্ট জাতি, অঞ্চল বা ধর্মকে বোঝানোর উদ্দেশ্য ছিল না। কোনো ভুল-বোঝাবুঝি তৈরি হয়ে থাকলে সেটি মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশ্য ছিল না বলেও জানানো হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট ছবিগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়।
১৮ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি বলেছেন, মন্ত্রণালয় বিভিন্ন মতামতকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেই ছবিটি সরিয়ে নিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বিদেশে থাকা জাপানি নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে যথাসময়ে উপযুক্ত তথ্য প্রকাশ এবং বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে ব্যাখ্যা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০১৮ সাল থেকে প্রতিবছর এ ধরনের সন্ত্রাস ও অপহরণবিরোধী প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে। এর পেছনে ২০১৬ সালের ১ জুলাই ঢাকার হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ওই হামলায় সাতজন জাপানি নাগরিকসহ ২২ জন নিহত হন।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, বিদেশে অবস্থানরত জাপানি নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বৈচিত্র্যময় হয়ে ওঠায় এ ধরনের প্রস্তুতির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
চলতি অর্থবছরে আরও তিনটি এ ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রশিক্ষণের তথ্য ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কীভাবে প্রকাশ করা হবে, তা নিয়ে আরও সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
সূত্র : জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জিজি প্রেস, দ্য জাপান টাইমস




