কোরিয়ার গৃহঋণ নীতির বেড়াজালে ভোগান্তিতে সাধারণ ক্রেতারা

সংগৃহীত ছবি
দক্ষিণ কোরিয়ায় আবাসন খাতের আকাশচুম্বী দাম ও পারিবারিক ঋণের চাপ নিয়ন্ত্রণে সরকার একের পর এক কঠোর নীতি চাপিয়ে দেওয়ায় দেশটির গৃহঋণ ব্যবস্থা এখন জটিল নিয়ম, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং নানা ব্যতিক্রমী শর্তের এক ‘প্যাচওয়ার্কে’ পরিণত হয়েছে। সিউল ও রাজধানী সংলগ্ন এলাকার আবাসন বাজার ঠান্ডা করতে লি জে-মিউং প্রশাসন একের পর এক ঋণ সংক্রান্ত কঠোর বিধি-নিষেধ জারি করলেও বাজারে সৃষ্টি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা।
জল্পনা-কল্পনামূলক বা ফাটকাবাজি বিনিয়োগ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে নিয়মগুলো প্রণয়ন করা হলেও, সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অভাবে প্রকৃত আবাসন ক্রেতা, তরুণ ও নবদম্পতিরা বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় ঋণ পেতে চরম ভোগান্তির মুখোমুখি হচ্ছেন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট, ২০২৬) ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস কমিশন (এফএসসি) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার বারবার নীতি সংশোধন ও নতুন ব্যতিক্রম যুক্ত করায় সমস্যা আরও ঘনীভূত হচ্ছে। অন্যতম বড় উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে ‘জনসে’ ভাড়াটেদের জামানত ফেরতের জন্য দেওয়া ব্যাংকিং ঋণ। ফাটকাবাজি ‘গ্যাপ ইনভেস্টমেন্ট’ কমাতেই রাজধানী অঞ্চলে এই ঋণের সীমা কমিয়ে ১০০ মিলিয়ন ওনে নামিয়ে আনা হয়েছিল।
কিন্তু এই বিধিনিষেধের ফলে যেসব সাধারণ ক্রেতা আগে থেকেই ভাড়াটে থাকা অ্যাপার্টমেন্ট বা বাড়ি প্রথমবার নিজের ব্যবহারের জন্য কিনতে চাচ্ছেন, তাঁরা ব্যাংকের অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একইভাবে, প্রথমবার বাড়ি ক্রেতাদের জন্য ‘লোন-টু-ভ্যালু’ অনুপাত ৮০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭০ শতাংশে নামিয়ে আনায় প্রয়োজনীয় মূলধনের অভাবে তরুণদের নিজস্ব বাড়ি কেনার স্বপ্ন দূর অস্ত হয়ে পড়েছে। এছাড়া ব্যাংকগুলোর ওপর সার্বিক গৃহঋণ কমানোর সরকারি চাপ থাকায়, বাড়ি হস্তান্তরের শেষ কিস্তির ঋণের মতো জরুরি প্রকৃত চাহিদাও ব্যাংকগুলো নাকচ করে দিচ্ছে।
নিয়মের এই জাঁতাকলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ায় এবং আর্থিক খাতে পাশ্বপ্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফএসসি আবারও গৃহঋণ নীতিতে নতুন সংশোধন ও ছাড় আনার উদ্যোগ নিচ্ছে। সংস্থাটি ব্যাংকগুলোর মোট পারিবারিক ঋণ সীমা থেকে প্রকৃত আবাসন চাহিদার ঋণগুলোকে বাদ দেওয়া এবং তরুণ ও নবদম্পতিদের জন্য নীতিগত পলিসি ঋণের আয়ের যোগ্যতা শিথিল করার কথা বিবেচনা করছে।
তবে বাজার বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদদের মতে, মৌলিক সমস্যার সমাধান না করে বারবার তালি দেওয়া বা আংশিক ব্যতিক্রমী নিয়ম যোগ করার এই প্রবণতা কোরিয়ার আবাসন ও আর্থিক নীতিকে আরও জটিল ও অনিশ্চিত করে তুলছে।




