ইন্দোনেশিয়ায় ৭৫০টি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশ হওয়া সত্ত্বেও ইন্দোনেশিয়ায় সরকারি ও বেসরকারি এই দুই খাতেই দুর্নীতির সমস্যা দীর্ঘদিনের। দুর্নীতিবিরোধী আইন শক্তিশালী করা, বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন এবং একাধিক হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পরও এ সমস্যা পুরোপুরি কাটেনি। এর মধ্যেই চলতি বছরের শেষ নাগাদ ৭৫০টি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। পার্লামেন্টে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে গতকাল শুক্রবার এ ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
এ সময় অদক্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো লোকসান দেখিয়েও ‘ভুয়া’ মুনাফার হিসাব দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে তদন্তে বিশেষ আদালত গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।
২০২৭ সালের বাজেট ইস্যুতে বলেছেন, ইন্দোনেশিয়ায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। বর্তমানে তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৭৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৯০টি এর মধ্যে বন্ধ হয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ৩০০টি প্রতিষ্ঠান চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করা হবে।
প্রাবোওর মতে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এমনভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যেন তাদের কোনো জবাবদিহিতা নেই। ২০২৪ সালের অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়া প্রেসিডেন্ট প্রাবোও এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা পর্ষদের গত তিন দশকের কার্যক্রমও তদন্তের আওতায় আনার কথা বলেছেন। তবে ভুল স্বীকার করে অনুতপ্ত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ ক্ষমার বিষয়টি বিবেচনা করতে আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনে এর মধ্যে প্রায় ৫০ ট্রিলিয়ন রুপিয়া পরিচালন ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাবোও। তার দাবি, ব্যবস্থাপনায় উন্নতির ফলে ২০২৫ সালে এসব প্রতিষ্ঠানের মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ৭৫ শতাংশের বেশি বেড়ে ৩২৬ ট্রিলিয়ন রুপিয়ায় দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের মূল্য নির্ধারণে আরও নিয়ন্ত্রণ চায় প্রাবোও সরকার। পার্লামেন্টে নতুন একটি খনিজ ও কমোডিটি এক্সচেঞ্জ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। তার যুক্তি, ইন্দোনেশিয়ার পাম অয়েল, নিকেল, টিন ও কয়লার মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দাম প্রায়ই বিদেশি বাজারে নির্ধারিত হয়। নিজেদের সম্পদের মূল্য নির্ধারণে ইন্দোনেশিয়ার আরও ভূমিকা থাকা উচিত।
এদিকে, দুর্নীতি ও খাদ্যে বিষক্রিয়ার অভিযোগে বিতর্কিত সরকারের বিনামূল্যে স্কুল খাবার কর্মসূচিও চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রাবোও। তবে উন্নয়ন ও দক্ষতা বাড়িয়ে কর্মসূচিটি পরিচালনার কথা বলেছেন তিনি। কর্মসূচি তদারকির দায়িত্বে থাকা সংস্থার সাবেক প্রধানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।






