দক্ষিণ আফ্রিকায় মবের হামলায় নিহত বিদেশি নাগরিক

সংগৃহীত ছবি
দক্ষিণ আফ্রিকার বন্দরনগরী ডারবানে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে মবের হামলায় নিহত হয়েছেন এক বিদেশি নাগরিক। প্রায় ৫০ জনের একটি দল তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ডারবানের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন ওই ব্যক্তি। এ সময় একদল লোক তার ওপর হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত ব্যক্তির জাতীয়তা প্রকাশ করেনি পুলিশ। তার বয়স ৩০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে বিক্ষোভটি কী নিয়ে হয়েছিল, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ডারবানে কয়েক মাস ধরেই বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে। দুই সপ্তাহ আগে অভিবাসনবিরোধী একটি মিছিলের পর শহরটিতে লুটপাট ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। গত জুন থেকে অবৈধভাবে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রবেশ করা আফ্রিকান অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। এসব বিক্ষোভের কয়েকটি সহিংসতায় রূপ নেয়।
নাইজেরিয়া, মোজাম্বিক, মালাউইসহ কয়েকটি দেশ জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশিবিদ্বেষী হামলায় তাদের কিছু নাগরিক নিহত হয়েছেন। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগের কয়েকটি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তাদের দাবি, কিছু মৃত্যুর সঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক রয়েছে।
সহিংসতা এড়াতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়েছেন হাজার হাজার অভিবাসী। তবে দেশটির সরকার জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় তাদের অনেককে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
আফ্রিকার বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনের আশায় বিভিন্ন দেশের মানুষ পাড়ি জমান। তবে দেশটির স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, কর্মসংস্থানের সুযোগ পর্যাপ্ত নয় এবং সরকারি সেবার ওপর তৈরি হয়েছে অতিরিক্ত চাপ।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা অভিবাসনবিরোধী সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া দেশটিতে প্রবেশ ও বসবাসের সুযোগ পাচ্ছেন বিদেশি নাগরিকেরা।
সরকারি হিসাবে, দক্ষিণ আফ্রিকার ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ২৪ লাখ বিদেশি নাগরিক বসবাস করছেন।
সূত্র: আলজাজিরা




