নাইকি নিয়ে দেওয়া লিবিয়ার ফতোয়ায় কী আছে

ছবি: রয়টার্স
লিবিয়ার শীর্ষ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ ‘বহুঈশ্বরবাদের’ সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতীক প্রচারের অভিযোগে ক্রীড়াসামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নাইকির বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছে।
দেশটির দার আল-ইফতা এক ধর্মীয় রায়ে মুসলমানদের নাইকি ব্র্যান্ডের পোশাক কেনা, বিক্রি করা ও পরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, নাইকির লোগোযুক্ত পোশাক পরা একাধিক উপাস্যের উপাসনার শামিল। কারণ, গ্রিক দেবী নাইকির নাম অনুসারে প্রতিষ্ঠানটির নাম রাখা হয়েছে।
ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ নাইকির বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে সমর্থনের অভিযোগও তুলেছে। পাশাপাশি ইসরায়েলপন্থী দেশগুলো বয়কটের আহ্বান জানিয়েছে।
লিবিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি সাদিক আল-ঘারিয়ানির অনুমোদনে এই ফতোয়া জারি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যাপক প্রভাব থাকলেও এর নির্দেশ আইনগতভাবে কার্যকর করার ক্ষমতা নেই।
রায়ে ধর্মীয় কমিটি বলেছে, নাইকি নামটি গ্রিক পুরাণ থেকে এসেছে। আর প্রতিষ্ঠানটির টিক চিহ্নের লোগোটি তৈরি করা হয়েছে গ্রিক বিজয়দেবী নাইকির ডানার আদলে।
লিবিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত প্রাচীন গ্রিক নগরী সাইরিনে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে ওই দেবীর ছবি ব্যাপকভাবে দেখা যায়।
তবে লিবিয়ায় নাইকির কোনো নিজস্ব দোকান নেই। দেশটির বিভিন্ন ক্রীড়াসামগ্রীর দোকানে নাইকি ব্র্যান্ডের পণ্য কেনার সুযোগ রয়েছে।
উত্তর আফ্রিকাজুড়ে ব্র্যান্ডটি বেশ জনপ্রিয়। তবে স্থানীয় বাজারগুলোতে প্রায়ই এর নকল পণ্য বিক্রি হয়।
২০২৫ সালে একই কারণে ফরাসি বিলাসবহুল গয়না নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভ্যান ক্লিফ অ্যান্ড আরপেলসের বিরুদ্ধেও ফতোয়া জারি করেছিল দার আল-ইফতা।
তখন প্রতিষ্ঠানটির চার পাতার ক্লোভার নকশাকে খ্রিষ্টীয় বিশ্বাস ও সৌভাগ্য লাভের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা হয়। ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের মতে, এসব বিষয় ইসলামি শিক্ষার পরিপন্থী।
পশ্চিম লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে অবস্থিত দার আল-ইফতা দেশটির একটি প্রভাবশালী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। ২০১১ সালে দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়ায় পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষ সক্রিয় রয়েছে।
দেশটিতে ধর্মীয় রক্ষণশীলতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিতর্কের মধ্যেই এই ফতোয়া জারি করা হলো।
গত বছর জননৈতিকতা ও ইসলামি মূল্যবোধ লঙ্ঘনের আশঙ্কার কথা জানিয়ে লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ থিয়েটার ও নৃত্য পরিবেশনার পাশাপাশি র্যাপ সংগীতের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল।
নাইকির বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে সমর্থনের অভিযোগও তুলেছে দার আল-ইফতা। এ ক্ষেত্রে তারা ২০২৩ সালে কাউন্সিল ফর রিসার্চ অ্যান্ড শরিয়া স্টাডিজের দেওয়া একটি বিবৃতির কথা উল্লেখ করেছে। গাজায় যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলকে সমর্থন করে বলে বিবেচিত পশ্চিমা কোম্পানিগুলো বয়কট করতে মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছিল ওই বিবৃতিতে।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ




