এইচএসবিসি ব্যাংকের বড় কেলেঙ্কারি
ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের নামে ইসরায়েলে অর্থায়ন
- ১০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ
- শরিয়াহসম্মত অর্থায়নের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন

একদিকে শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি। অন্যদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকা প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে কোটি কোটি ডলার। গাজায় যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই সামনে এলো ব্রিটিশ ব্যাংক এইচএসবিসির পরিচালিত ‘হালাল’ তহবিলের এ চাঞ্চল্যকর হিসাব। ধর্মীয় নীতির নিশ্চয়তায় যে অর্থ বিনিয়োগ করছেন গ্রাহকরা, তার একটি অংশ যাচ্ছে ইসরায়েলি সামরিক খাতসংশ্লিষ্ট পাঁচ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে। প্রশ্ন উঠেছে, শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগের আড়ালে এই অর্থের প্রকৃত গন্তব্য সম্পর্কে কতটা জানেন গ্রাহকরা?
গত বুধবার প্রকাশিত মিডল ইস্ট আইয়ের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এইচএসবিসির ইসলামিক গ্লোবাল ইক্যুইটি ইনডেক্স ফান্ড চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এমন পাঁচ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কিনেছে, যাদের সঙ্গে ইসরায়েলি সামরিক খাতের সম্পর্ক রয়েছে। মোট বিনিয়োগের মূল্য ১০ কোটি ডলারের বেশি। অনুসন্ধানটি তহবিলের অর্ধবার্ষিক হিসাব বিশ্লেষণ করে করা হয়েছে। ব্রিটেনে বহু শরিয়াহসম্মত অবসরভাতা প্রকল্পের অর্থ এ তহবিলে বিনিয়োগ করা হয়।
সবচেয়ে আলোচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি মার্কিন অস্ত্র নির্মাতা আরটিএক্স। এর শেয়ারে তহবিলটির বিনিয়োগ প্রায় ৩ কোটি ৫৭ লাখ ডলার। আরটিএক্সের সহযোগী রেথিয়ন ইসরায়েলি অস্ত্র নির্মাতা রাফায়েলের সঙ্গে আয়রন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে।
মার্কিন নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান পালান্টিরের শেয়ারে রয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৮৩ লাখ ডলার। গত মঙ্গলবার হাইফেনের পৃথক অনুসন্ধানে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।
অ্যানালগ ডিভাইসেসের শেয়ারে ২ কোটি ৩ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছে তহবিলটি। মিডল ইস্ট আইয়ের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালে ইসরায়েলি অস্ত্র নির্মাতা এলবিট সিস্টেমসকে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ দিয়েছিল।
হানিওয়েলের শেয়ারে ১ কোটি ৮৯ লাখ ডলার এবং ব্রিটিশ রোলস রয়েসের শেয়ারে ১ কোটি ৭৬ লাখ ডলার বিনিয়োগের তথ্যও এসেছে। আলজাজিরার আগের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে গাজার একটি বিদ্যালয়ে আঘাত হানা ক্ষেপণাস্ত্রে হানিওয়েলের তৈরি নির্দেশনা-সংক্রান্ত যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়। ওই হামলায় শিশু ও নারীসহ অন্তত ৪০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছিলেন। রোলস রয়েসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইসরায়েলি সাঁজোয়া যান ও সামরিক সরঞ্জামে ব্যবহৃত ইঞ্জিন সরবরাহ করে। পাঁচ প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের অঙ্ক যোগ করলে প্রায় ১৩ কোটি ডলার দাঁড়ায়।
তহবিলটির পুরনো বিনিয়োগের তালিকায় ব্রিটিশ অস্ত্র প্রস্তুতকারক বিএই সিস্টেমসও রয়েছে। পাশাপাশি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ বসতির সম্পত্তি তালিকাভুক্ত করার অভিযোগে জাতিসংঘের নজরে থাকা দুটি ভ্রমণ সংস্থার শেয়ারও রয়েছে। একদিকে গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ছে ফিলিস্তিনিদের জীবন। অন্যদিকে সেই যুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ হচ্ছে ‘হালাল’ তহবিলের অর্থ।



