ইতালি
বাড়বে বয়স্ক মানুষ, সংকুচিত হবে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী
- ২০৫০ সালের মধ্যে ইতালির জনসংখ্যা কমবে ৪০ লাখ

২৫ বছরে ইতালির জনসংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ কমে যেতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা। ছবি: সংগৃহীত
আগামী ২৫ বছরে ইতালির জনসংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ কমে যেতে পারে। একই সময়ে দ্রুত বাড়বে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা এবং কমবে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী। এতে অর্থনীতি, শ্রমবাজার ও সামাজিক কল্যাণব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সংস্থাটির নতুন জনসংখ্যাতাত্ত্বিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরুতে ইতালির স্থায়ী জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৫ কোটি ৮৯ লাখ। ২০৫০ সালে তা কমে প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখে দাঁড়াতে পারে। ২০৮০ সালের মধ্যে জনসংখ্যা আরও কমে প্রায় ৪ কোটি ৫৮ লাখে নেমে আসার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
জনসংখ্যা কমার অন্যতম প্রধান কারণ দীর্ঘদিন ধরে জন্মহার কমে যাওয়া। একই সঙ্গে বাড়ছে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা। ২০০৮ সালের পর থেকে ইতালিতে জন্মহার ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে জন্মসংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজারে নেমে এসেছে, যা ১৮৬১ সালে ইতালির একত্রীকরণের পর সর্বনিম্ন।
পরিসংখ্যান সংস্থাটির পূর্বাভাস বলছে, ২০৩০ সাল পর্যন্ত বার্ষিক জন্মসংখ্যা মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও এরপর তা আবার কমতে থাকবে। ২০৫০ সালে বছরে জন্মসংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৩৫ হাজারে নেমে আসতে পারে।
অন্যদিকে, ইতালির যুদ্ধ-পরবর্তী ‘বেবি বুম’ প্রজন্ম এখন বার্ধক্যে পৌঁছাচ্ছে। ফলে আগামী কয়েক দশকে মৃত্যুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। ২০২৫ সালে প্রায় ৬ লাখ ৫২ হাজার মৃত্যুর বিপরীতে ২০৫৮ সালে এ সংখ্যা সর্বোচ্চ প্রায় ৮ লাখ ৬৯ হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
জনসংখ্যার বয়স কাঠামোতেও বড় পরিবর্তন আসবে। ২০২৫ সালে ইতালির মোট জনসংখ্যার ২৪ দশমিক ৭ শতাংশের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। ২০৫০ সালে এ হার বেড়ে ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
অন্যদিকে, ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত ২০২৫ সালের ৬৩ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমে ২০৫০ সালে ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। ফলে একদিকে শ্রমশক্তি কমবে, অন্যদিকে পেনশন ও বয়স্কদের জন্য কল্যাণমূলক ব্যয়ের প্রয়োজন বাড়বে। এই পরিবর্তন ইতালির অর্থনীতি ও কল্যাণব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলে জানিয়েছে জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বাড়ানো প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তবে এখন পর্যন্ত জন্মহার বাড়ানোর প্রচেষ্টা কাঙ্ক্ষিত ফল দেয়নি। ২০২২ সালে ক্ষমতায় আসার পর মেলোনি সরকার পরিবার ও সন্তান জন্মদানে উৎসাহ দিতে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বললেও ইতালির দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যা সংকট অব্যাহত রয়েছে।
তবে এই সংকট পুরো ইতালিতে সমানভাবে প্রভাব ফেলবে না। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে দেশটির তুলনামূলক দরিদ্র দক্ষিণাঞ্চল। পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ ইতালির জনসংখ্যা ২০২৫ সালের প্রায় ১ কোটি ৯৭ লাখ থেকে কমে ২০৫০ সালে প্রায় ১ কোটি ৬৭ লাখে নেমে যেতে পারে। উত্তর ও মধ্যাঞ্চলেও জনসংখ্যা কমবে, তবে সেখানে পতনের হার তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসংখ্যার এই পরিবর্তন শুধু মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয় নয়। এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছে শ্রমবাজার, পেনশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।
আগামী কয়েক দশকে তাই ইতালিকে একই সঙ্গে কম জন্মহার, দ্রুত বয়স্ক হয়ে ওঠা জনসংখ্যা এবং সংকুচিত কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই জনমিতিক পরিবর্তন ঠেকানো কঠিন হলেও এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে নতুন অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতি গ্রহণ জরুরি হয়ে উঠবে।








