ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ শেষ

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ শেষ হয়ে গেছে ইউক্রেনের। ফলে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে কার্যত প্রতিরক্ষাহীন হয়ে পড়েছে দেশটি। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে।
সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল আমদানির চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে ইউক্রেনের ওপর চাপ বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের চুক্তিতে নিজেকে প্রতারিত মনে করছেন জেলেনস্কি। হোয়াইট হাউজের চাপ সত্ত্বেও তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোয় হামলা চালিয়ে যাবে ইউক্রেন।
কয়েক মাস ধরেই জেলেনস্কি বলে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ ফুরিয়ে আসছে ইউক্রেনের। এটি রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম অল্প কয়েকটি প্রতিরক্ষাব্যবস্থার একটি।
তবে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের দাম অনেক বেশি এবং বিশ্ববাজারে সরবরাহও সীমিত। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে এটি অনেক ব্যবহৃত হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ মিত্র দেশগুলোয় এর চাহিদা বেড়েছে।
পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র সিএনএনকে বলেছে, ‘সর্বশেষ হামলায় ছোড়া প্রায় সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিরোধ করা যায়নি। কারণ, প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি ছিল।’
বুধবার ভোরে কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রাশিয়া। ওই হামলায় রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কিয়েভের তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হানে। একই সঙ্গে খারকিভের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ওই দিন কিয়েভে ৪ জন নিহত ও ২৫ জন আহত হন।
এর আগে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছিল, তারা রাশিয়ার চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ইউক্রেনের হাতে থাকা প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের শেষ কয়েকটি এতে ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ পুরোপুরি শেষ হয়ে যাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয় বলে মনে করা হচ্ছে। আরও ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের জন্য দেশটির ক্রমাগত প্রচেষ্টার কথা জেলেনস্কি প্রকাশ্যেই বলে আসছেন।
গত আগস্টের মাঝামাঝি ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, দেশটির প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ প্রায় শেষ হয়ে এসেছে।
সেসময় জেলেনস্কি বলেছিলেন, মিত্রদের সঙ্গে ‘লাখ লাখ’ ফোনকলে তার দিন কাটে। এসব ফোনালাপের উদ্দেশ্য আরও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের চুক্তি করা। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, জরুরিভাবে যত ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন, ইউক্রেনের হাতে তার মাত্র এক-দশমাংশ রয়েছে।
এর এক মাস পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স পাবে তার দেশ। তবে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট করেননি। শেষ পর্যন্ত সেই লাইসেন্সও পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে তেল আমদানির যে চুক্তি করেছেন ট্রাম্প, তাতে ইউক্রেনের সঙ্গে বিরোধ স্পষ্ট হয়েছে। রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলা বন্ধ করার জন্য ওয়াশিংটনের অনুরোধকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক দিনগুলোয় জেলেনস্কি ও ট্রাম্পের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে তিনি রাজি হতে পারেন, তবে তার বিনিময়ে অন্তত আরও প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র দিতে হবে।
তিনি আরও বলেছেন, ‘যখন আমরা আরও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চেয়েছি, তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া ছিল স্টারলিংকের সেবা দুর্বল করে দেওয়া।’
বুধবার এক প্রকাশ্য বিবৃতিতে জেলেনস্কি ফের আরও ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য আবেদন জানান। তিনি বলেন, ‘শক্তি, ন্যায়বিচার ও আগ্রাসীর ওপর চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে শান্তি এগিয়ে নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে সব কার্যকর ও প্রয়োজনীয় উপায় রয়েছে। আমরা ইউক্রেনের জন্য প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার অতিরিক্ত চালান চাইছি।’
সূত্র: সিএনএন।



