তিন দশক পর জানলেন ছোটবেলার বান্ধবীই তার আপন বোন

ছবি: রয়টার্স
ছোটবেলা হয়েছিল পরিচয়, তারপর বন্ধুত্ব। এর প্রায় তিন দশক পর জানতে পারলেন সেই বান্ধবী আর কেউ নয়, তারই আপন বোন। নেদারল্যান্ডসের দুইটি ভিন্ন পরিবারে বড় হওয়া মীনা এবং মিনাল ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সম্প্রতি জানতে পেরেছেন তাদের সম্পর্কের কথা।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছোটবেলায় মীনা এবং মিনালকে ভারতের একটি অনাথ আশ্রমে রেখে যাওয়া হয়। পরে নেদারল্যান্ডের দুটি পরিবার দত্তক নেয় তাদের। সেখানে মাত্র ১৩০ কিলোমিটার দূরত্বে বেড়ে ওঠেন দুজন। বেড়ে ওঠার সময় দুজনের কেউই জানতেন না তাদের বোন আছে।
কিশোর বয়সে দত্তক নেওয়া শিশুদের একটি সমাবেশে দেখা হয় দুজনের। তারা একে অপরের প্রতি এক অস্বাভাবিক আকর্ষণ অনুভব করেন। বন্ধুরা তাদের চেহারার মিল দেখে অবাক হয়েছিল। সেখানেই দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়। এমনকি মজা করে একে অপরকে ‘বোন’ বলেও ডাকতেন। এরপর ১৫ বছরের জন্য যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেন তারা।
বর্তমানে ৪৪ বছর বয়সী মিনাল ফ্রান্সে স্বামী ও দুই ছেলেকে নিয়ে বসবাস করেন। গত এপ্রিল মাসে ঘরে বসে তিনি মাইহেরিটেজের ডিএনএ পরীক্ষা করেন। পরীক্ষার ফলাফলে মীনার সঙ্গে তার ১০০ শতাংশ মিল পাওয়া যায়।
প্রথমে মিনাল বুঝতে পারেননি, ডিএনএ পরীক্ষায় পাওয়া সেই ব্যক্তি তার কিশোর বয়সের পরিচিত মীনা। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না।’ পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মীনাকে খুঁজে পান এবং পুরোনো ছবি দেখে তাকে চিনতে পারেন।
ডিএনএ পরীক্ষার ফল জানার পর নেদারল্যান্ডসে আবার দেখা হয় দুই বোনের। বোন হিসেবে প্রথম সাক্ষাৎ ছিল আবেগপূর্ণ। তারা পরস্পরকে জড়িয়ে ধরেন, হাসেন, কাঁদেন এবং বোন হিসেবে প্রথম সেলফিও তোলেন।
মীনার কণ্ঠে, ‘তোমাকে দেখলে মনে হয়, আমি বাড়ি ফিরে এসেছি। বছরের পর বছর আমার হৃদয়ে একটা শূন্যতা ছিল। মনে হচ্ছে, সেই হারানো ধাঁধার টুকরোটি খুঁজে পেয়েছি।’
মিনালের ভাষ্য, ‘আমরা বোন হওয়ার আগে বন্ধু ছিলাম। আসলে আমরা সবসময়ই বোন ছিলাম, শুধু সেটা জানতাম না।’







