এল নিনোর প্রভাবে কেনিয়ায় দুই বনাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল

কেনিয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ দাবানল। ছবি: সংগৃহীত
জলবায়ু পরিবর্তন ও এল নিনোর প্রভাবে অস্বাভাবিক খরা, শুষ্কতা ও তাপদাহের মধ্যে কেনিয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যস্থল মাউন্ট কেনিয়া এবং কোস্টাল রিজিয়নের তাইতা তাভেতা কাউন্টির ভোই-তাভেতা মহাসড়কসংলগ্ন বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কেনিয়া ফরেস্ট সার্ভিস (কেএফএস) ও কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিসের (কেএডব্লিউএস) মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, মাউন্ট কেনিয়ার লেক অ্যালিস ও লেক এলিসের পার্বত্য অববাহিকায় দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। পাহাড়ি এলাকায় প্রবল বাতাস ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে অন্তত ১৭টি স্থানে আগুনের শিখা দেখা গেছে।
অন্যদিকে, তাইতা তাভেতা কাউন্টির ভোই-তাভেতা সড়কে ৬ সেপ্টেম্বর রাত থেকে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া যায়। শুরুতে একটি জ্বালানি বহনকারী ট্যাংকার উল্টে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে গুঞ্জন ছড়ালেও পরে কেনিয়া রেড ক্রসের পক্ষ থেকে এটিকে এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট শুষ্কতার কারণে ছড়িয়ে পড়া দাবানল হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
পরিবেশ বিজ্ঞানী ও জলবায়ু গবেষকদের মতে, ঘটনাটিকে শুধু আকস্মিক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ভারত মহাসাগরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং সক্রিয় এল নিনোর প্রভাবে কেনিয়ার উচ্চভূমি ও বনাঞ্চলে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
শুষ্ক পাতা ও পাহাড়ি ঘাসে আগুন লাগার পর প্রবল বাতাসের কারণে তা দ্রুত বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এতে কেনিয়ার দুর্লভ উদ্ভিদ, উচ্চভূমির জীববৈচিত্র্য এবং সাভো ন্যাশনাল পার্কের বাস্তুতন্ত্র হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেনিয়া ফরেস্ট সার্ভিস, কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস, কেনিয়া রেড ক্রস সোসাইটি এবং স্থানীয় কাউন্টি ফায়ার ব্রিগেডের সদস্যরা কাজ করছেন। দুর্গম ও খাড়া পাহাড়ি এলাকায় অগ্নিনির্বাপক যান পৌঁছাতে না পারায় আগুন নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টারে পানি ছিটানোর পাশাপাশি ফায়ার লাইন কাটার মতো পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে।
কেনিয়া রেড ক্রসের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আগুন যাতে লোকালয় ও বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের মূল গভীরে না প্রবেশ করে, সেজন্য ২৪ ঘণ্টা ফায়ার সার্ভিসের মনিটরিং সেল কাজ করছে।’
দাবানল নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তবে শুষ্ক আবহাওয়া ও প্রবল বাতাস অব্যাহত থাকলে আগুন আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।






