ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইসরায়েলকে ‘স্বীকৃতি দিলেই’ কার্যকর হবে সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি

ছবি: রয়টার্স
গত বছরের নভেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব একটি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছিল। তবে এ সময় দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে হওয়া অসংখ্য বৈঠক ও যোগাযোগে সৌদি আরবের ইসরায়েলকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি একবারও আলোচনায় আসেনি বলে জানিয়েছেন আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বর্তমান ও সাবেক দুই মার্কিন কর্মকর্তা। তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই (এমইই)।
এক কর্মকর্তা এমইইকে বললেন, ‘ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করাকে কখনোই এই চুক্তির শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। একবারও নয়।’
তবে বুধবার সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তিতে সই করার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিকমাধ্যমে লিখেছেন, সৌদি আরব ‘অত্যন্ত সম্মানিত ও সফল’ আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিলেই শুদু এই চুক্তি কার্যকর হবে।
ট্রাম্পের এই পোস্টে যুক্তরাষ্ট্র ও আরব বিশ্বের কর্মকর্তারা বিস্মিত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। কারণ, ওই দিনই ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে কথা হয়েছিল। একই দিনে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও টেলিফোনে আলোচনা করেন।
ট্রাম্প আগে থেকেই প্রকাশ্যে বলে আসছেন, তিনি সৌদি আরবকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত করতে চান। ২০২০ সালে তার উদ্যোগে হওয়া এই চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মরক্কো ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এটিকে তার সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করেন ট্রাম্প।
তবে তার একটি সামাজিকমাধ্যম পোস্টই মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে— এমন একটি চুক্তির প্রেক্ষাপট বদলে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব যদি নিজ দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সক্ষমতা অর্জন করে, তাহলে তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোও একই পথে হাঁটার প্রতিযোগিতায় নামতে পারে। একই সঙ্গে নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি টিকিয়ে রাখতে যুদ্ধরত ইরানও আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচিত ইসরায়েল এ ক্ষেত্রে নিজের কৌশলগত সুবিধা হারানোর আশঙ্কা করছে। যদিও দেশটি কখনোই প্রকাশ্যে পারমাণবিক অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেনি।
বুধবার পর্যন্ত এই চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছিল। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে শুরু থেকেই আপত্তি জানালেও যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকার জন্য ট্রাম্প সৌদি আরবকে এর মাধ্যমে পুরস্কৃত করছেন বলেও অনেকে মনে করেছিলেন।
হোয়াইট হাউজ এই চুক্তিকে ‘মার্কিন শ্রমিক ও সরবরাহব্যবস্থার জন্য উপকারী’ বলে প্রশংসা করেছিল। তবে এখন এটি সৌদি আরবের ইসরায়েলের সঙ্গে আলাদা একটি কূটনৈতিক সমঝোতার ওপর নির্ভরশীল বলে মনে হচ্ছে।
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বললেন, ‘প্রেসিডেন্ট কয়েক ঘণ্টা আগেই এই বক্তব্য দিয়েছেন। এরপর যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে তার আর কোনো কথা হয়েছে বলে আমি মনে করি না।’ ট্রাম্প এই শর্ত নিয়ে সৌদি যুবরাজের সঙ্গে আলোচনা করেছেন কি না, এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান তিনি।
লেভিট আরও বলেছেন, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টেরই। সৌদি আরব যদি আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ না দেয়, তাহলে এই চুক্তি বাতিল হয়ে যাবে।’
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিফেন্স প্রায়োরিটিজের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ রোজমেরি কেলানিক এমইইকে বললেন, ‘ট্রাম্প সামাজিকমাধ্যমে যা-ই লিখুন না কেন, তাতে তিনি যে চুক্তিতে সই করেছেন, সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বদলে যায় না। তবে তিনি চাইলে অবশ্যই চুক্তিটি বাতিল করতে পারেন।’




