যুদ্ধের জন্য তৈরি হচ্ছে হামাস

সংগৃহীত ছবি
আবার যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে হামাস। আগের থেকেও শক্তিশালীভাবে পুনর্গঠন করছে নিজেদের। রবিবার ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম কান নিউজের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। সংবাদটিতে জানানো হয়, হামাসের সামরিক শাখা তাদের সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে এবং নতুন করে সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত সপ্তাহে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) একটি রিপোর্টে বাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল আয়াল জামিরকে সতর্ক করেছেন আইডিএফের গোয়েন্দা পরিদপ্তর ও সাউদার্ন কমান্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের একটি প্রতিবেদনেও একই খবর প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, রিপোর্টটির উৎস তাদের জানা নেয়। তবে সেটিতে আইডিএফ কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, হামাস প্রতি মাসে শত শত বিস্ফোরক ও ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। দলে যোগদান করছে ১৮ থেকে ২২ বছর বয়সী নতুন যোদ্ধারা। ‘সন্ত্রাসী বাহিনী,’ হামাস সম্প্রতি তাদের ‘নুখবা’ বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও শুরু করেছে বলে রিপোর্টে যোগ করা হয়েছে। জামিরকে আইডিএফ কর্মকর্তারা সতর্ক করে বললেন, ‘মাঠপর্যায়ে হামাস বেশ শক্তিশালী। সংগঠনটি গাজার নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে অনিচ্ছুক।’ প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, সংগঠনটি সিনাই অঞ্চল হয়ে ড্রোন ও যোগাযোগযন্ত্র গাজায় প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা চিফ অব স্টাফকে জানিয়েছেন, বর্তমানে মাঠপর্যায়ে হামাস শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তাদের মতে, সংগঠনটির ওপর উল্লেখযোগ্য কোনো চাপ নেই এবং হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে প্রস্তুত নয়। এই মূল্যায়নের পরিপ্রেক্ষিতে বলা হয়— আইডিএফ মনে করছে, হামাসের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করা প্রয়োজন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই পথের বিরোধিতা করছে। ওয়াশিংটনের অবস্থান হলো, গাজা উপত্যকায় বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন পাওয়া ওই পরিকল্পনার আওতায় ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর আগে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস নেতৃত্বাধীন হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। তবে পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। ধাপে ধাপে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, হামাস নিরস্ত্রীকরণ এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের বিষয় রয়েছে।
হামাসের অবস্থান হলো— প্রথম ধাপের প্রতিশ্রুতিগুলো ইসরায়েল বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত তারা নিরস্ত্রীকরণে রাজি হবে না। এসব প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা, সেনা প্রত্যাহার এবং হামলা বন্ধ করা।
অন্যদিকে, বোর্ড অব পিসের গাজাবিষয়ক দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ বলেছেন, হামাস যদি দ্বিতীয় ধাপের নিরস্ত্রীকরণ শর্তে সম্মত হয়, তবেই ইসরায়েলের কাছ থেকে ওই প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করা উচিত। এদিকে যুদ্ধবিরতি বহাল থাকলেও গাজায় প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে আইডিএফ। তাদের দাবি, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এসব অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং সম্ভাব্য হামলা ঠেকানো হচ্ছে।
গতকাল সোমবার আইডিএফ জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের এক সদস্য উত্তর গাজায় রবিবারের এক হামলায় নিহত হয়েছেন। সেনাবাহিনীর দাবি, নিহত ব্যক্তি জাহের আবু সালেম, যিনি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে প্রবেশ করেছিলেন এবং বেসামরিক নাগরিক অপহরণে অংশ নিয়েছিলেন। আইডিএফ আরও দাবি করেছে, আবু সালেম যুদ্ধ চলাকালে এবং সাম্প্রতিক সময়েও ইসরায়েলি সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন। সে কারণেই তাকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। অন্যদিকে হামাস-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সোমবার সকালে মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় এক হামলায় তিনজন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে আট বছর বয়সী মালেক আবু শাওয়িশও রয়েছে। এই হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আইডিএফ কোনো মন্তব্য করেনি।




