প্রাণীর প্রতি শাম্মীর ভালোবাসা

শাহানা সুলতানা শাম্মীর বিড়ালের সংসার। ছবি: আগামীর সময়
হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার গল্প কার না জানা! যার বাঁশির সুরে ছুটে আসত ইঁদুরের দল। ঠিক তেমনি একজন রংপুরের শাহানা সুলতানা শাম্মী। কোনো গল্প নয়, বাস্তব উদাহরণ তিনি। তার ডাকে চোখের পলকেই ছুটে আসে আশপাশের ছোট-বড় বিড়ালের দল।
অর্ধশতাধিক পথবিড়ালকে নিয়মিত খাবার দেন শাম্মী। সেখানে ভাগ বসায় আশপাশের কুকুর, কাকসহ নানা প্রজাতির পাখি। এ ছাড়া বিভিন্ন জাত ও বয়সের অর্ধশতাধিক বিড়াল রয়েছে তার, যারা বাসায় অবস্থান করে পরিবারের সদস্য হিসেবে। বিড়ালের চিকিৎসার জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে একজন প্রাণী চিকিৎসক। শখের বসে নয়, বিড়ালের প্রতি ভালোবাসা ও প্রাণিকুলের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে প্রায় ১৪ বছর ধরে এ কাজ করছেন তিনি।
লালি, টয়, সুজি, চেরী, ভুলু, মেরী, জেরী, শ্যামসহ বিভিন্ন নাম রয়েছে প্রত্যেক বিড়ালের। নাম ধরে ডাকলেই ছুটে আসে। প্রাইভেট পড়ানোর পাশাপাশি একটি প্রকাশনা সংস্থার মালিক তিনি। ছোট বোন শাকিলা সুলতানা বিড়ালকে খাওয়ানোসহ পরিচর্যা ও খেলাধুলা করানোর কাজে সহযোগিতা করেন। পাড়া-পড়শিরাও বাসায় এসে উপভোগ করেন বিড়ালের খেলা।
রংপুর নগরীর কেরানীপাড়ার স্টাফ কোয়ার্টার রোডে শাম্মীদের বাসা। অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক সদরুল আলম ও মমতাজ বেগম দম্পতির মেয়ে শাম্মী। বাসায় ঢুকে কোনোভাবেই বোঝার উপায় নেই যে ছোট্ট ওই বাসায় এতগুলো বিড়ালের বসবাস। কারণ বিড়ালের জন্য রয়েছে আলাদা কক্ষ, তারা সেখানেই থাকে। ওই কক্ষে রয়েছে খাট, সোফা, চেয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের ঝুড়ি— যেখানে বিড়ালগুলো আরামে ঘুমায়। আছে পুতুল, পাণ্ডা, ঝুনঝুনিসহ খেলার বিভিন্ন উপকরণ। বিড়ালদের গান শোনানোর ব্যবস্থাও আছে। দিনে তিনবার খাওয়ানো হয় বিড়ালদের। খাবার তালিকায় থাকে ভাত, মাছ, মুরগি ও ক্যাটফুড।
বিড়ালের প্রতি ভালোবাসার গল্প শোনালেন শাম্মী। ২০১২ সালের কথা। বাসায় একটি মাত্র বিড়াল ছিল। তাকে আদর-যত্নসহ খাওয়ানোর কারণে এক এক করে নতুন নতুন বিড়াল এসে যোগ হয়।
আশপাশে বাসাবাড়ির বিড়ালের বাচ্চা হওয়ার পর বিড়ালরাই মুখে করে তাদের বাচ্চা এনে এখানে রেখে যায়। এভাবে বিড়ালের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তখন থেকেই ভালোবাসা জন্মে বিড়ালের প্রতি। এ পর্যন্ত তিনি পালন করেছেন পাঁচ শতাধিক বিড়াল।
বাসার বিড়াল ছাড়াও পথবিড়ালদের জন্য একবেলার খাবারের আয়োজন থাকে উল্লেখ করে শাম্মী জানালেন, বাসার ছোট্ট ছাদে প্রতিদিন সকাল ৮টার দিকে পথবিড়ালদের খাবার দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পথবিড়ালরা ওই স্থানে জড়ো হয়ে খাবারের জন্য অপেক্ষা করে। সঙ্গে ভিড় করে কুকুর ও পাখি।
মাছ কিংবা মুরগির মাংস মাখানো ভাত খাওয়ার পর তারা চলে যায়। বাসায় বর্তমানে বিভিন্ন জাত ও রঙের ৫০টির বেশি বিড়াল আছে। এ ছাড়া প্রাণী চিকিৎসক তৌহিদুল ইসলাম নিয়মিত ভ্যাকসিন প্রদানসহ বিড়ালগুলোর স্বাস্থ্য পরিচর্যা করেন। তবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় শাম্মী এখন নিজেই ভ্যাকসিন প্রদানসহ প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। এ কাজে সহায়তা করেন পাড়া-পড়শিরাও।
শাম্মীর মা মমতাজ বেগম জানালেন, প্রথমে খুব বিরক্ত লাগত। টেবিলে রাখা জিনিসপত্র সবসময় ওলট-পালট করত। এখন নির্দিষ্ট রুমে বিড়াল থাকে। বিড়াল নিয়ে সারাদিন মেয়েদের ব্যস্ততা আর হাসি-আনন্দে বিরক্তি কেটে গেছে।




