৪০০ মানুষের চোখের আলো খায়রুল

দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে খায়রুল বাশার খান। ছবি: আগামীর সময়
কয়েক মাস আগেও আলেয়া বেগমের (৬৫) পৃথিবী ছিল ঝাপসা। রান্নাঘরের আগুন, উঠানের পথ, এমনকি নাতিনাতনিদের চেহারাও ঠিকমতো দেখতে পারতেন না তিনি। এখন আলেয়া বেগম সব পরিষ্কার দেখতে পান। অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরার এই গল্পের পেছনে আছেন মুক্তিযোদ্ধা খায়রুল বাসার খান (৭০)। তার বাড়ি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার খোর্দ্দমেগচামী গ্রামে।
আলেয়া বেগম জানালেন, অপারেশন করানোর মতো টাকা ছিল না। পরে এক ব্যক্তির মাধ্যমে বাসারের কথা জানতে পেরে তার কাছে গেলে তিনিই সব ব্যবস্থা করে দেন। ২০১৫ সালে শুরু হওয়া খায়রুলের এ কাজ এখন ছড়িয়ে পড়েছে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জসহ আশপাশের কয়েকটি জেলায়। ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা সদরের মালেকা চক্ষু হাসপাতাল থেকে তিনি রোগীদের ছানি ও নেত্রনালি অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করেন।
খায়রুলের ভাষ্য, প্রায়ই এ ধরনের সমস্যা নিয়ে দরিদ্র মানুষ আসেন তার বাড়িতে। এক দশকের বেশি সময় ধরে চলছে তার এই কার্যক্রম। এ পর্যন্ত তিনি চার শতাধিক রোগীর অস্ত্রোপচার করিয়ে তাদের চোখে আলো ফিরিয়ে দিয়েছেন।
খায়রুল বললেন, ‘আমার স্ত্রীর নেত্রনালির সমস্যার কারণে ২০১৫ সালের শুরুর দিকে মালেকা চক্ষু হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সেখানে দুজন দরিদ্র মানুষ অস্ত্রোপচারের খরচ জোগাড় করতে না পেরে কান্না করছিলেন। তাদের কান্না আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়।’
‘তখনই মনে হয়েছিল আমি কি তাদের পাশে দাঁড়াতে পারি না? শুধু ওই দুজন নন, এমন শত শত মানুষ আছেন, যারা টাকার অভাবে এই সুন্দর পৃথিবী দেখতে পারছেন না। সেই ভাবনা থেকেই শুরু করি ছানি-নেত্রনালি অস্ত্রোপচারে সহযোগিতা’— যোগ করেন খায়রুল।
খায়রুলের এ কাজে সিংহভাগ অর্থ জোগান দেন তার জামাতা। ছেলেও যথেষ্ট সহযোগিতা করেন।
স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে খায়রুলের সংসার। আনসার-ভিডিপি থেকে অবসর নেওয়ার পর যুক্ত হয়েছেন কৃষি কাজে। ভিডিপি সেবার জন্য তিনি পেয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি পদক।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বুঝে আমাদের সহযোগিতা করছে বলেই আমরা আরও বেশি মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারছি— বলছিলেন খায়রুল।
মালেকা চক্ষু হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা খান আতাউর রহমান জানিয়েছেন, ছানি অপারেশনের ক্ষেত্রে ৭-৮ হাজার টাকা খরচ হয়। খায়রুল বাসার খান মাঝেমধ্যেই ছানি অপারেশনের জন্য রোগী আনতেন। ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা দিতেন ছানি অপারেশনে। আমরা হাসপাতাল থেকেও বাকিটা ভার নিতাম।




