অসহায়দের আলোর দিশারি বীথি

বীথির দেওয়া রিকশায় চলে অনেক অসহায় পরিবারের সংসারের চাকা - আগামীর সময়
ভাড়ায় রিকশা চালাতেন রংপুরের কাউনিয়া এলাকার ছাবের আলী। ভাড়া পরিশোধ করে দিনে ১০০-১৫০ টাকা আয়ে চলছিল না ছয় সদস্যের সংসার। স্ত্রী ভিক্ষা করতেন গ্রামে। গত ঈদে জাকাতের টাকায় তাকে নতুন রিকশা কিনে দেন আরিফা জাহান বীথি। রংপুর নগরীর নূরপুর এলাকার আলোর দিশারি তরুণী বীথির ভালোবাসায় ভালো আছেন একসময় ভীষণ কষ্টে থাকা অসহায় অনেক মানুষ।
করোনাকালে মানুষ যখন ছিলেন ঘরবন্দি, বীথি তখন ভয়কে পেছনে ফেলে খাবার পৌঁছে দিয়েছেন নগরীর পাড়ায় পাড়ায়।
২০২১ সাল থেকে এ পর্যন্ত রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ১১টি মসজিদ নির্মাণ করেছেন তিনি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১৫০ অসহায় মানুষকে রিকশা ও ৩০০ নারীকে দিয়েছেন সেলাই মেশিন। মালপত্রসহ দোকান করে দিয়েছেন ৩৭ জনকে। রংপুরে ‘স্বাবলম্বী পিঠামেলা’র আয়োজন করে সেই আয়ে ৬৩ গ্রামীণ নারীকে করেছেন স্বাবলম্বী।
তারাগঞ্জ উপজেলার ডাংগিরহাট গ্রামের শাহানা বেগম ও বদরগঞ্জের পূর্ব রামবাজার গ্রামের দুলালী বেগম বীথির সহায়তা পেয়ে খুশি। তাদের অভিব্যক্তি, ‘বীথি আপার জন্যে হামরা ভালো আছি। আপায় পিঠা মেলা করে হামাক জিনিসপত্রসহ টাকা দিচে। এ্যালা পিঠা বেচে হামার সংসার চলে।’
বীথি ছিলেন ক্রিকেটার। রংপুর বিভাগীয় দলের পাশাপাশি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলেছেন। ২০১৭ সালে ইনজুরিতে পড়ে জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন তছনছ হয়ে যায়। ক্রিকেটার হিসেবে বীথির সঙ্গে পরিচয় আছে বিভিন্ন অঙ্গনের অনেক নামকরা মানুষের। বীথির কাজের বিষয়ে জানতে পেরে নামিদামি ক্রিকেটার, বিভিন্ন অঙ্গনের অনেক তারকাসহ বহু মানুষ তার কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। রংপুর নগরে নারীদের জন্য গড়ে তুলেছেন ‘ওমেন্স ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমি’ সেখানে অনুশীলন করেন প্রায় আড়াইশ নারী।
রংপুর নগরের নূরপুর এলাকার মফিজুল ইসলাম ও মাজেদা বেগম দম্পতির সন্তান বীথি। চার ভাইবোনসহ অভাবের সংসারে কষ্টের সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছেন। একসময় অন্যের কাছ থেকে বই নিয়ে পড়া বীথি এ বছর মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছেন।
বীথির প্রশংসা করলেন রংপুরের নারীনেত্রী ইরা হক, ‘অসহায় নারীদের স্বাবলম্বী করার নজির সৃষ্টি করা বীথি আমাদের গর্ব।’ ‘তার নিখাদ ভালোবাসায় ভালো আছেন অনেকেই।’ মনে করেন তিনি। বীথি বললেন, ‘যদি সামান্য ইচ্ছাশক্তি সবার মধ্যে কাজ করে, তবেই সমাজে আমরা সবাই মিলেমিশে ভালো থাকতে পারব।’






