স্মৃতির সরণিতে চ্যাম্পিয়নরা

জাতীয় স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা নামার আগেই মাঠে ট্রেডমার্ক সাদা জার্সিতে উপস্থিত একঝাঁক ফুটবল তারকা। এর কিছু পরই সবুজ জার্সিতে নামলেন পরের প্রজন্ম। দুই প্রজন্ম কিন্তু পরিচয় এক, তারা চ্যাম্পিয়ন।
গতকাল রবিবার ঢাকা স্টেডিয়ামে ২০০৩ সাফজয়ীরা খেললেন ২০১০ সাফ গেমস সোনাজয়ী তারকাদের সঙ্গে, জয়-পরাজয়ও হলো। তবে সবকিছু ছাপিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় সবাই জ্বললেন আলো হয়ে। নতুন প্রজন্ম পারেনি সেই আলো কেড়ে নিতে।
ম্যাচটির অন্যতম উদ্যোক্তা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, দুই চ্যাম্পিয়ন দলের একমাত্র প্রতিনিধি, সফল গোলরক্ষক। তিনি দুই প্রজন্মের সেতুবন্ধের কারিগরও বটে। তাই কালও দুই অর্ধে খেললেন দুই দলের হয়ে। ২০০৩ সাফের শিরোপা জয়ে গোলরক্ষক আমিনুলের ছিল বড় ভূমিকা। ফাইনালে মালদ্বীপের একটি শট রুখে দিয়েছিলেন দারুণ দক্ষতায়। সেই স্মৃতিচারণ করেছেন আমিনুল, ‘সেই স্মৃতি কখনোই ভোলার নয়। আসলে অভাবনীয় একটি সন্ধ্যা ছিল। আমি ওদের দ্বিতীয় শটটা ঠেকিয়ে দিই। আর সুজন আমাদের হয়ে শেষ শটটা নেয়। সেটা জালে জড়াতেই সারা স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়েছিল।’
সেই অবিস্মরণীয় সন্ধ্যার পুনরাবৃত্তি ঘটেছিল সাত বছর পর এই ঢাকা স্টেডিয়ামে। এসএ গেমস ফুটবলের ফাইনালে আফগানিস্তানকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে আরেকবার শিরোপা আনন্দে ভেসে যায় মানুষ। সেই স্মৃতিও তরতাজা প্রতিমন্ত্রীর— ‘২০১০ সালে আমরা এ মাঠেই এসএ গেমস স্বর্ণপদক জিতেছিলাম। দুটি সাফল্যের স্মৃতি নিয়ে সতীর্থদের সঙ্গে আজ কথা বলছিলাম। আমরা চাই এই ২০২৬-এর ৫ নভেম্বর শুরু হতে যাওয়া সাফে এ রকম একটা সন্ধ্যার পুনরাবৃত্তি ঘটবে। শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে আরেকবার সারা দেশের হাজারো ভক্ত-সমর্থক উদ্বেলিত হবে।’
অসুস্থতার কারণে মাঠে আসতে পারেননি ২০০৩ সাফজয়ী দলের অধিনায়ক রজনীকান্ত বর্মণ। তাই আর্মব্যান্ডটা ছিল আলফাজ আহমেদের বাহুতে।
দুই অর্ধের বিরতিতে ২০০৩ সাফল্যের নেপথ্য নায়ক জর্জ কোটানকে নীরবতার মধ্য দিয়ে স্মরণ করেন শিষ্যরা। আলফাজ কোচের স্মৃতিচারণ করলেন এভাবে, ‘ফাইনালের আগে কোচ টিম মিটিংয়ে ব্রিফ করতে করতে কেঁদে দিয়েছিলেন। সেই কান্নায় আমরা সবাই আবেগাপ্লুত হয়ে যাই। এই কান্না আমাদের অনেক উদ্বুদ্ধও করেছিল। মাঠে গিয়েও আমরা সর্বস্ব দিয়ে খেলেছিলাম বলেই শিরোপা জিততে পেরেছিলাম। এর পর থেকে যতবারই সাফ টুর্নামেন্ট হয়েছে, মন থেকে চেয়েছি বাংলাদেশ শিরোপা জিতুক। তবে ২৩ বছরেও সেটা হয়নি। আশা করি, এবার দল শিরোপা জিতে সেই আক্ষেপ ঘোচাবে।’ ২০০৩ সাফে সর্বোচ্চ তিন গোল করা রোকনুজ্জামান কাঞ্চন আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন কিছু সময়ের জন্য, ‘সেই ২৩ বছর আগের জার্সি পরে আজ খেললাম। মনে হচ্ছিল সেই সন্ধ্যাটায় ফিরে গিয়েছি। আমি সেমিফাইনাল ও ফাইনালে গোল করেছিলাম। সেই অর্জন গৌরবটা সারাজীবন সঙ্গী হয়ে থাকবে।’
এমন উদ্যোগের জন্য প্রতিমন্ত্রী আমিনুলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন ২০১০ এসএ গেমসজয়ী দলের অন্যতম স্ট্রাইকার জাহিদ হাসান এমিলি, ‘এ রকম একটা ম্যাচ আমরা অনেক দিন ধরেই খেলতে চাইছিলাম। আমিনুল ভাই সে সুযোগ করে দিলেন। এসএ গেমসে সফল হতেও আমিনুল ভাইয়ের অবদান ভোলার নয়। শুধু দলটাকে আগলে রাখেননি, আমরা কিন্তু সেবার একটা গোলও হজম করিনি।’ আরেকটা সাফের আগে স্মৃতির সরণিতে ঘুরে বেড়ালেন ইতিহাসের এই নায়করা।



