এশিয়ান গেমস
বাংলাদেশের অ্যাথলেটদের আবাসন ছাড়া করার হুমকি আয়োজকদের

ছবি: আগামীর সময়
সাফল্যে না হোক, আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে নেতিবাচক কারণে বারবার আলোচনায় আসছে বাংলাদেশের নাম। বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের শেফ দ্য মিশন ইমরোজ আহমেদের কাছে গেমস আয়োজক কমিটির কাছ থেকে এসেছে কড়া বার্তা। সরাসরি নাম উল্লেখ না করলেও বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের একাধিক অফিসিয়ালের বিরুদ্ধে গেমসের আয়োজক ও সেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও উচ্চস্বরে কথা বলার গুরুতর অভিযোগ তুলে সতর্ক বার্তা দিয়েছে সাংগঠনিক কমিটি। এ রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটালে গেমসে নির্দিষ্ট আবাসন থেকে বের করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশকে।
নাগোয়া গেমস শুরু থেকেই আলোচনায় আবাসন সংকট নিয়ে। বাংলাদেশ ছাড়াও অন্যান্য দেশের ক্রীড়াবিদ, অফিসিয়ালদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সম্প্রতিক চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয় বাংলাদেশ আর্চারি দলকে। দেশ থেকে লম্বা বিমান ভ্রমণ করে এসে সময় মতো আবাসন পায়নি তারা। আর্চারি দলের থাকার ব্যবস্থা করা হয় গেমস উপলক্ষ্যে ইতালি থেকে ভাড়া আনা বিলাসবহুল ক্রুজে। সেখানে ১৬ জনের জন্য আটটি কক্ষ দেওয়ার কথা ছিল আয়োজক কমিটির। তবে যেদিন দল নাগোয়া পৌঁছায় সেদিন প্রায় ৯ ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকার পর পাঁচটি রুম বরাদ্দ দেওয়া হয় দলকে। জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখকে থাকতে হয় জিমন্যাস্টিকসের দুই কর্মকর্তার সঙ্গে। আর আর্চারির দুই অফিসিয়ালকে মধ্যরাতে পাঠানো হয় অন্য হোটেলে।
বারবার রুম চেয়েও না পেয়ে আর্চারি দলের অফিসিয়াল ও কোচ কিছুটা মেজাজ হারিয়েছিলেন। ক্রুজে দায়িত্বরত আয়োজক কমিটির লোকজনের সঙ্গে কিছুটা উচ্চস্বরেও কথা বলেন। জানা যায়, সে রাতে আর্চারদের গাদাগাদি করে থাকতে হয়েছে। এর পরের দিন কেটে গেলেও নির্দিষ্ট কক্ষ তাদের বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ আছে, এসব নিয়ে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কর্তাদের সঙ্গেও মেজাজ হারিয়ে কথা বলেন দলের সঙ্গে ম্যানেজার হয়ে আসা আর্চারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তানভীর রায়হান।
এসব ঘটনা আয়োজক কমিটিও ভালোভাবে নেয়নি। তারা বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশের শেফ দ্য মিশনের কাছে কড়া ভাষায় চিঠি লিখে বাংলাদেশকে সতর্ক করে দেয়। চিঠি প্রাপ্তির কথা স্বীকার করেন ইমরোজ আহমেদ বলেছেন, ‘বেশ কড়া ভাষায় একটা চিঠি আমাকে অ্যাড্রেস করে পাঠিয়েছে এলওসি (স্থানীয় সাংগঠনিক কমিটি) চিঠিতে কারও নাম বা পরিচয় তারা উল্লেখ করেনি। তবে বলেছে, বাংলাদেশের কন্টিনজেন্টের একাধিক সদস্য দায়িত্বরত আয়োজক কমিটির সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন এবং উচ্চস্বরে কথা বলেছেন। আমি এই চিঠির পাল্টা উত্তরে পুরো ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছি এবং বলেছি এরকম ঘটনা মোটেই কাম্য নয়। একই সঙ্গে আয়োজকদের কাছে এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ও পরিচয় জানতে চেয়েছি, পাশাপাশি কিছু তথ্যপ্রমাণও চেয়েছি। সেটা পেয়ে অবশ্যই আমরা এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেব। কারণ এতে দেশের অসম্মান হয়েছে। কারও অধিকার নেই দেশের অসম্মান করা।’
ইমরোজ জানিয়েছেন, তিনি ঠিকই বুঝতে পেরেছেন কার দিকে আঙুল তুলেছে আয়োজক কমিটি। তবে নাম উল্লেখ না করায় এখনো কোনো ব্যবস্থা তিনি নিতে পারছেন না, ‘বিষয়টা আর্চারি দলকে ঘিরে সেটা আমরা জানতে পেরেছি। জাপানিরা জাতিগতভাবে ভীষণ বিনয়ী ও সৎ। তবে অন্যায় বা অনিয়মের বিরুদ্ধে ভীষণ কঠোর। তারা চিঠিতে এটাও বলেছেন, এ রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদের ক্রুজ থেকে বের করে দেওয়া হবে এবং সেক্ষেত্রে সেই খেলোয়াড় বা অফিসিয়ালকে নিজ বন্দোবস্তে থাকতে হবে, তারা কোনো দায়িত্ব নেবে না।’
শেফ দ্য মিশনের পক্ষ থেকে অবশ্য আর্চারি দলের কারও সঙ্গে এ ব্যাপারে কোনোকিছু জানতে চাওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন আর্চারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ তানভীর রায়হান, ‘বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন সাংগঠনিক কমিটি কিংবা ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়ার পক্ষ থেকে আমাদের এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। আমরা আমাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান রেখেছি। ভবিষ্যতে এমন কোনো পরিস্থিতি যদি তৈরি হয়, তবে আমরা আমাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে প্রস্তুত আছি।’
আরচারি ডিসিপ্লিনের খেলা শুরু হবে শনিবার থেকে। তার আগে আয়োজক কমিটি ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের এ চিঠি চালাচালির বিষয়টি মোটেই সুখকর নয় আরচারদের জন্য।



