ফর্মুলা ওয়ান চালককে ১৩ হাজার হত্যার হুমকি

ফর্মুলা ওয়ানে সাইবার বুলিং কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে, তার এক ভয়ানক চিত্র তুলে ধরলেন আন্তর্জাতিক অটোমোবাইল ফেডারেশনের (এফআইএ) সভাপতি মোহাম্মদ বিন সুলায়েম। স্প্যানিশ গ্র্যান্ড প্রিক্স প্রতিযোগিতার একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফরাসি ড্রাইভার পিয়ের গাসলিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় ১৩ হাজার মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানান।
অস্টিন গ্র্যান্ড প্রিক্সের ভেন্যুতে সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ড্রাইভ’-এর সঙ্গে আলাপকালে বিস্ফোরক এই তথ্য সামনে আনেন এফআইএ প্রধান। গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল স্প্যানিশ গ্র্যান্ড প্রিক্স। প্রতিযোগিতার শেষ ল্যাপে আলপাইন দলের হয়ে খেলা গাসলি তার সতীর্থ আর্জেন্টাইন ড্রাইভার ফ্রাঙ্কো কোলাপিন্টোকে নিজের পজিশন ছেড়ে দেননি। এ কারণে গাসলি এবং তার পরিবারের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে একদল সমর্থক।
এরপর থেকেই শুরু হয় গাসলির ওপর সাইবার আক্রমণ। গাসলি ঘটনার পরপরই জানিয়েছিলেন যে কেবল তিনি নিজে নন, তার বান্ধবী এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও তীব্র হুমকির মুখে পড়েছেন। এই প্রসঙ্গে মোহাম্মদ বিন সুলায়েম বলেন, ‘পিয়ের গাসলি ১৩ হাজার মৃত্যুর হুমকি পেয়েছে, ভাবা যায়! ১৩,০০০! আমরা যদি একা লড়াই করি, তবে ব্যর্থ হব; আমাদের পক্ষে একা এই তাণ্ডব থামানো সম্ভব নয়।’ পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গত দুই সপ্তাহ আগে আর্জেন্টাইন ড্রাইভার ফ্রাঙ্কো কোলাপিন্টো নিজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি তার ভক্তদের উদ্দেশ্যে স্পষ্টভাবে জানান যে, সতীর্থ গাসলি, দলের মেকানিক বা অন্য কোনো চালকের ওপর এ ধরনের আক্রমণ যেন আর না করা হয়। কোলাপিন্টো সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘এই আচরণে আমার বা আমার ভবিষ্যতের কোনো উপকার হচ্ছে না।’
শুধু ড্রাইভাররাই নন, স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করা রেস স্টুয়ার্ডরাও এই অনলাইন সহিংসতার শিকার হচ্ছেন বলে জানান বিন সুলায়েম। এক নারী স্টুয়ার্ডকে হত্যার পাশাপাশি ধর্ষণের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করা এক কর্মকর্তাকে যখন এমন চরম হুমকি দেওয়া হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই তারা বলেন যে এই ঝুঁকির কোনো মানে হয় না।’
এই সামাজিক ব্যাধি রোধে এফআইএ ‘অনলাইন হেনস্তার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ’ নামক একটি বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শুরু হয়েছে বলে জানান বিন সুলায়েম। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অপরাধী দর্শক হলে তাদের সার্কিট ও অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম থেকে চিরতরে নিষিদ্ধ করা হবে। সংবাদকর্মী হলে প্রেস কার্ড কেড়ে নেওয়া হবে এবং ইন্টারনেটে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মুখোশ খুলে দেওয়া হবে।






