ধন্যবাদ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
একদিন আর্জেন্টিনা দল থেকে বিদায় নেবেন লিওনেল মেসি— কথাটা সবাই জানত। কিন্তু সেই দিনটি যখন সত্যিই সামনে আসে, তখন মনে হয় শেষ হয়ে যাচ্ছে ফুটবলেরই একটা যুগ। যে খেলোয়াড়ের বাঁ পায়ের ছোঁয়ায় অসম্ভব সম্ভব হয়েছে, যার জাদুতে কোটি মানুষ একই সঙ্গে আনন্দে কেঁদেছেন, উল্লাসে চিৎকার করেছেন; আজ সেই মেসি শেষবার খেলেছেন আর্জেন্টিনার জার্সিতে। এমন এক শিল্পীকে বিদায় বলতে হচ্ছে, যিনি শুধু ফুটবল খেলেননি; ফুটবলকে সংজ্ঞায়িত করেছেন নতুন করে।
২০০৫
মেসি আপনাকে ধন্যবাদ, অসম্ভবকে সম্ভব বলে বিশ্বাস করতে শেখানোর জন্য। ধন্যবাদ, বল পায়ে এমন কিছু মুহূর্ত উপহার দেওয়ার জন্য, যেগুলো শুধু গোল বা অ্যাসিস্টের পরিসংখ্যানে মাপা যায় না। ধন্যবাদ, ফুটবলকে শিল্পে পরিণত করার জন্য।
২০১০
আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির পথটা অবশ্য শুরু থেকেই এত সুন্দর ছিল না। ছিল হতাশা, সমালোচনা, একের পর এক ফাইনাল হারের যন্ত্রণা। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনাল, ২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকার বেদনা— সবকিছু পেরিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত পূরণ করেছেন নিজের এবং আর্জেন্টিনার স্বপ্ন।
২০২১ সালে কোপা আমেরিকা। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ। ২০২৪ সালে আবার কোপা আমেরিকা। মাঝে ফিনালিসিমা। যে ট্রফিগুলো একসময় অধরা মনে হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেগুলোই উঠেছে মেসির হাতে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তিনিই একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি গোল্ডেন বল জিতেছেন দুবার।
২০১৪
রেকর্ডের পাতায়ও মেসি অনন্য। ছয়টি বিশ্বকাপে ৩৪ ম্যাচ, বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এক বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে ফাইনাল পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে গোল করার কীর্তিও তার। ২০১২ সালে এক পঞ্জিকাবর্ষে ৯১ গোলের অবিশ্বাস্য রেকর্ড তো ফুটবল ইতিহাসেরই অন্যতম বিস্ময়। তবে মেসির সবচেয়ে বড় অর্জন হয়তো কোনো রেকর্ড নয়, তার সবচেয়ে বড় অর্জন তিনি কোটি কোটি মানুষকে ফুটবলকে ভালোবাসার নতুন কারণ দিয়েছেন।
২০১৬
একটি প্রজন্ম তার খেলা দেখে বড় হয়েছে। একটি প্রজন্ম তার ড্রিবলিংয়ে মুগ্ধ হয়েছে, তার গোল উদযাপন করেছে, তার পাসে বিস্মিত হয়েছে, তার ব্যর্থতায় কেঁদেছে, আবার তার সাফল্যে ভেসেছে আনন্দে।
তাই তাকে বিদায় জানাতে গিয়ে শুধু এটুকুই বলা যায়— ধন্যবাদ, লিও।
২০১৮
শৈশবের সেই ছোট্ট ছেলেটি থেকে ফুটবলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পী হয়ে ওঠার পুরো যাত্রা আমাদের দেখানোর জন্য ধন্যবাদ। ধন্যবাদ, আর্জেন্টিনাকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করার জন্য। ধন্যবাদ, অসংখ্য অবিস্মরণীয় রাত উপহার দেওয়ার জন্য। ধন্যবাদ, ফুটবলকে আরও সুন্দর করে তোলার জন্য।
২০২১
আপনার পরিসংখ্যান একদিন পুরনো হয়ে যাবে। রেকর্ড একদিন ভেঙে যাবে। আসবেন নতুন তারকারা। কিন্তু আপনার ফুটবল, আপনার সেই বাঁ পায়ের জাদু থেকে যাবে মানুষের স্মৃতিতে। যুগের পর যুগ, শতাব্দীর পর শতাব্দী। তাই আপনাকে শুধু বিদায় নয়, এক পৃথিবী জুড়ে ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতা।
ধন্যবাদ মেসি। ফুটবলকে ধন্য করার জন্য।










