‘মেসি আর রোনালদোর মধ্যে কোনো তুলনা হয় না’

সংগৃহীত ছবি
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। নিঃসন্দেহে ক্যারিয়ারের শেষ এই বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশ নিতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এমন সময়ে দুজনের মধ্যে কে সেরা— তা নিয়ে নতুন করে বিস্ফোরক মতামত দিয়েছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোমারিও।
ব্রাজিলের হয়ে ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চেয়ে অনেক ওপরে। সেই সঙ্গে তাদের মধ্যে কোনো তুলনাই চলে না বলে মনে করেন ৬০ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রোমারিওকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘আপনি কি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চেয়ে সেরা খেলোয়াড় ছিলেন?’ জবাবে ব্রাজিলের সাবেক এই স্ট্রাইকার বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি মেসির চেয়ে পিছিয়ে, তবে ক্রিশ্চিয়ানোর চেয়ে এগিয়ে।’ সাংবাদিক যখন এর কারণ জানতে চান, তখন রোমারিও ক্রিশ্চিয়ানো ও মেসির ফুটবলীয় দক্ষতার পার্থক্য তুলে ধরেন।
রোমারিও বলেছেন, ‘আমার মতে, মেসি এমন একজন মানুষ, যে ঈশ্বর প্রদত্ত প্রতিভা নিয়ে জন্মেছে। এটা সম্পূর্ণ সহজাত। আজ তার যা কিছু আছে, তা জন্মের পর থেকেই তার মধ্যে ছিল। অন্যদিকে, ক্রিশ্চিয়ানো কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ক্যারিয়ারের পথ ধরে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে তৈরি করেছে। অর্থাৎ তার চরম পেশাদারিত্বই তাকে আজকের এই অবস্থানে এনেছে। কিন্তু টেকনিক্যাল দিক থেকে বিচার করলে মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানোর মধ্যে কোনো তুলনাই হতে পারে না।’
ব্রাজিলের হয়ে দুবার কোপা
আমেরিকা জেতা এবং অফিসিয়াল হিসাব মতে ৭৮৪ গোলের মালিক রোমারিও নিজেকে ইতিহাসের অন্যতম
সেরা মানলেও মাত্র চারজন ফুটবলারকে নিজের চেয়ে এগিয়ে রেখেছেন। তিনি বলেছেন, ‘পেলে, ম্যারাডোনা এবং মেসি আমার চেয়ে ভালো খেলেছেন। আর হয়তো গারিঞ্চা।’ তিনি ‘দ্য ফেনোমেনন’ রোনালদো নাজারিওকে নিজের সমকক্ষ এবং রোনালদিনহোকে নিজের চেয়ে ‘একটু পিছিয়ে’ রেখেছেন।
মরুর বুকে রাজত্ব রোনালদোর
২৩ মে ২০২৬
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নিজেকে ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ফুটবলার দাবি করার বিষয়ে রোমারিও বললেন, ‘আমি যখন বলি কেউ আমার চেয়ে কম খেলেছে, তার মানে আমি মাঠের ফুটবলার হিসেবে তাদের চেয়ে বেশি কমপ্লিট ছিলাম। ক্রিশ্চিয়ানো নিজেকে সর্বকালের সেরা মনে করে। আমি তার এই অবস্থানকে শতভাগ সম্মান করি। তার এই কথা বলার অধিকার আছে। তবে আমার চোখে সে শুধু ইতিহাসের সেরা পাঁচ স্ট্রাইকারের একজন হতে পারে।’
বার্সেলোনার সাবেক এই তারকা ফরোয়ার্ড বর্তমানে ব্রাজিলের একজন আইনপ্রণেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে নেইমারকে নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছিলেন তিনি। অবশেষে আনচেলত্তির দলে নেইমার ডাক পাওয়ায় রোমারিও স্বস্তি প্রকাশ করেন, ‘প্রতিভাবানদের জায়গা হলো জাতীয় দল। নেইমারের মতো প্রতিভাকে কোনো কোচের বাদ দেওয়া উচিত নয়। সে শতভাগ ফিট না থাকলেও অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে একজন নেইমার দলে থাকা অনেক বেশি কার্যকর।’








