মরুর বুকে রাজত্ব রোনালদোর

ক্লাব ফুটবলের এমন কোনো বড় শিরোপা নেই, যা তার শোকেসে শোভা পাচ্ছে না। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বহুবার জিতেছেন ইউরোপের নামিদামি সব ট্রফি। তবুও সৌদি প্রো লিগের মতো ‘অখ্যাত’ এক দেশের লিগ শিরোপা জিতে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর চোখে ঝরল পানি। মরুর বুকে একটি শিরোপার জন্য চাতক পাখির মতোই তৃষ্ণার্ত ছিলেন আধুনিক ফুটবলের এই কিংবদন্তি।
বিশ্বকাপ ছাড়া আর কিছু জেতা বাকি ছিল না। পাঁচবার চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইউরোপসহ ৩৬ শিরোপা জেতা সিআর সেভেনের তো শিরোপা নিয়ে আকাঙ্ক্ষাই থাকার কথা নয়! তবে নামটা যখন রোনালদো, সাফল্যের ক্ষুধা তো মেটে না! সেই ক্ষুধাই রোনালদোকে নিয়ে এলো সৌদিতে। ইউরোপ ছেড়ে এশিয়ার মরুর বুকেও যে গাড়তে হবে নিজের সাফল্যের ঝান্ডা।
রোনালদো আল নাসরে এলেন, বদলে গেল পুরো অঞ্চলের ফুটবলের চালচিত্র। পুরো ফুটবল দুনিয়ার চোখ তখন সৌদির দিকে। আল নাসরের হয়ে কেমন করবেন পর্তুগিজ তারকা? কতগুলো শিরোপা উঁচিয়ে ধরবেন প্রতি মৌসুম শেষে?
দিন যায়, মাস যায়, মৌসুম যায়; শিরোপা আর আসে না! প্রতিপক্ষের জালে গোলের বন্যা বইয়ে দিলেও দলীয় সাফল্য কিছুতেই ধরা দেয় না রোনালদোর। চাপ বাড়ে, বাড়ে ধেয়ে আসা সমালোচনার তীরের সংখ্যাটাও। বারবার কাছে গিয়েও ছোঁয়া হয় না সেই কাঙ্ক্ষিত শিরোপা।
কয়েক দিন আগে নিশ্চিত হতে পারত লিগ শিরোপা। অন্তিম মুহূর্তে অবিশ্বাস্যভাবে গোল হজম করে নিজের পায়ে কুড়াল মেরেছে আল নাসর। বেঞ্চে বসে রোনালদো যেন মানতেই পারছিলেন না ব্যাপারটা। অবশেষে ১২৩৯ দিন পর ভাগ্যদেবী ফিরে তাকাল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এ ফুটবলারের দিকে। রোনালদোর জোড়া গোলেই দামাককে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে লিগ শিরোপা নিশ্চিত করল আল নাসর।
শিরোপা নিশ্চিতের সেই মুহূর্তে ক্যামেরায় ধরা পড়ল এক দৃশ্য। রোনালদোর চোখে যে পানি! ‘রোবটিক’ রোনালদো ৪০ বছর বয়সে এসে একটি শিরোপা জিতে কাঁদছেন, এ যেন অবিশ্বাস্য এক ব্যাপার। কাঁদতে কাঁদতে আঙুল তুলে গ্যালারিতে থাকা পরিবারের দৃষ্টি আকর্ষণের পর কান্নার বেগ যেন আরও বাড়ল।
রোনালদোর জন্য এই একটি শিরোপা কত আরাধ্য ছিল, সেটা হয়তো প্রমাণ করে তার চোখের পানিই। লিগ শিরোপা হাতে পুরো মাঠ দাপিয়ে বেড়ালেন প্রথম শিরোপা জেতা তরুণ ফুটবলারের মতো। ১৩২৩ ম্যাচ, ৯৭৩ গোলের পরও রোনালদো যে চির তরুণ। সেই তরুণই মরুর বুকে ফোটালেন সাফল্যের ফুল।






