বার্সেলোনায় যোগ দিয়ে গর্ডনের ছোটবেলার স্বপ্নপূরণ

সংগৃহীত ছবি
লিভারপুল কিংবা বায়ার্ন মিউনিখের মতো ইউরোপীয় পরাশক্তিদের জোরালো গুঞ্জনকে পাশ কাটিয়ে অবশেষে বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড অ্যান্থনি গর্ডন। ৮০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে নিউক্যাসেল ইউনাইটেড থেকে এই উইঙ্গারকে দলে ভেড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে কাতালান ক্লাবটি। পাঁচ বছরের চুক্তিতে ক্যাম্প ন্যু-তে যোগ দিয়ে গর্ডন জানিয়েছেন, বার্সেলোনায় খেলা তার ছোটবেলার স্বপ্ন ছিল এবং তিনি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতেন যে একদিন এই ক্লাবের জার্সি গায়ে জড়াবেন।
নির্ধারিত সময়ের প্রায় নয় ঘণ্টা পর গতকাল শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ২৫ বছর বয়সী এই ইংলিশ তারকাকে বার্সেলোনার খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। মিডিয়া রুমে উপস্থিত সাংবাদিকরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও, সংবাদ সম্মেলন শুরু হতেই চমকে দেন গর্ডন। স্প্যানিশ ভাষায় অনর্গল কথা বলে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন এই ব্রিটিশ ফুটবলার।
পরে তিনি নিজেই খোলসা করেন তার এই ভাষা শেখার রহস্য, ‘আপনারা বিশ্বাস করবেন কি না জানি না, তবে ছোটবেলা থেকেই আমার মনে গভীর বিশ্বাস ছিল যে আমি একদিন বার্সার হয়ে খেলব। আর সেই কারণেই আমি স্প্যানিশ ভাষা শিখতে শুরু করি। নিউক্যাসেলে আমার একজন ফিজিওথেরাপিস্ট ছিলেন, যার সঙ্গে আমি প্রতিদিন কথা বলতাম। আমি তাকে সবসময় বলতাম যে একদিন আমি বার্সেলোনায় খেলব, তাই আমার আগে থেকেই স্প্যানিশটা রপ্ত করা দরকার।’ বার্সার প্রধান কোচ হান্সি ফ্লিকের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে গর্ডন বলেন, ‘হ্যাঁ, ফ্লিকের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি এমনিতেই খুব রোমাঞ্চ অনুভব করছিলাম, কিন্তু তার সঙ্গে কথা বলার পর তা আরও বেড়ে গেছে। তার ম্যান-ম্যানেজমেন্ট দারুণ এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বার্সেলোনায় দারুণ সাফল্য এনে দিয়েছেন।’
চলতি মৌসুমে বার্সেলোনায় ধারে খেলা আরেক ইংলিশ ফরোয়ার্ড মার্কাস রাশফোর্ডের ২৬ মিলিয়ন পাউন্ডের ‘বাই অপশন’ বা স্থায়ী চুক্তির ধারাটি সক্রিয় করতে যখন ক্লাবটি অনীহা দেখাচ্ছিল, তখন প্রায় ৭০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে গর্ডনকে কেনা নিয়ে ফুটবল মহলে কিছুটা বিস্ময় তৈরি হয়েছে। ধারে থাকার সময় রাশফোর্ড ৪৯ ম্যাচে ১৪টি গোল ও ১১টি অ্যাসিস্ট করলেও বার্সা ম্যানেজমেন্টের নজর ছিল গর্ডনের ওপর।
কাতালান ক্লাব সূত্রের খবর, ফ্লিকের হাই-প্রেসিং ফুটবলের সঙ্গে গর্ডন অনেক বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ। নিউক্যাসেলে খেলার সময় গর্ডন নিজেকে প্রমাণ করেছেন। এছাড়া তার ডিফেন্স চেরা দৌড় পেদ্রি কিংবা লামিন ইয়ামালদের পাসিংয়ের সঙ্গে দারুণভাবে মিলে যাবে। ২৫ বছর বয়সী এই উইঙ্গার প্রয়োজনে সেন্টার-ফরোয়ার্ড হিসেবেও খেলতে পারেন। তবে রাশফোর্ডের সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি বলেই খবর।







