পত্রিকা বিক্রেতা থেকে মেসির গুরু

লা মাসাইয়ার পর মায়ামিতেও মেসির কোচ গিয়েরমো হোয়োস। ছবি: সংগৃহীত
ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে হঠাৎ ইন্টার মায়ামির প্রধান কোচের দায়িত্ব ছেড়েছেন আর্জেন্টাইন সাবেক তারকা হাভিয়ের মাশচেরানো। তার হাত ধরে গত ডিসেম্বরে এমএলএস কাপ জিতেছিল ইন্টার মায়ামি। এই সাফল্যের চার মাসের মাথায় সবাইকে চমকে দিয়ে ক্লাব ছাড়লেন তিনি। মাশচেরানোর পদত্যাগের পর অভিভাবক শূন্য মেসি-সুয়ারেসদের দায়িত্বে এখন ৬৩ বছর বয়সী গিয়েরমো হোয়োস।
হোয়োসের সঙ্গে মেসির সম্পর্ক শুধু কোচ-খেলোয়াড়ের নয়, অনেকটা পিতা-পুত্রের। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনার বিখ্যাত যুব একাডেমি লা মাসিয়ায় কাজ করেছেন হোয়োস।
মেসির ক্যারিয়ারের উত্থানের সেই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনিই ছিলেন সবচেয়ে বড় আশ্রয়।
আর্জেন্টাইন মহাতারকা নিজেই একসময় বলেছিলেন, ‘বার্সায় আসার পর থেকে হোয়োস সবসময় আমার পাশে থেকেছেন। আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছেন, আজকের এই জায়গায় আসতে তিনিই সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছেন আমাকে।’
লা মাসিয়ার পর সেই মেসি-হোয়োস আবারও জুটি বাঁধছেন মায়ামিতে। তিনি এর আগে মায়ামির ক্রীড়া পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার হলেন দলটির কোচ।
শৈশবে রেলকর্মী বাবার মাদকাসক্তির কারণে রাস্তায় দিন কাটাতে হয়েছে হোয়োসের পরিবারকে। সে সময় বেঁচে থাকতে ছোটোখাটো অনেক কাজ করেছেন হোয়োস। কখনও করেছেন জুতা পালিশ। বিক্রি করেছেন খবরের কাগজও। সেই কঠিন জীবন পেরিয়ে আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো, চিলি, বলিভিয়ার একাধিক ক্লাবে কোচিং করিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এই অভিজ্ঞ কোচ।
হোয়োসকে পেশাদার ফুটবলে আনেন আর্জেন্টাইন কোচ সিজার মেনোত্তি। ১৯৭৯ সালে জাপানে অনুষ্ঠিত ফিফা যুব বিশ্বকাপের জন্য তাকে প্রাথমিক দলে রেখেছিলেন মেনোত্তি। সেই দলে ছিলেন ডিয়েগো ম্যারোডোনা ও রামোন দিয়াসের মতো খেলোয়াড়রাও। তবে শেষপর্যন্ত চূড়ান্ত দলে জায়গা হয়নি তার।
২০০০ সালের শেষদিকে কোচের ভূমিকায় স্পেনে পাড়ি জমান হোয়োস। তিন বছর অপেক্ষার পর বার্সেলোনার যুব একাডেমিতে প্রথম বড় সুযোগ পান তিনি। সেখানে তার তত্ত্বাবধানে ছিলেন পিকে, পেদ্রো, বুস্কেৎস ও লিওনেল মেসি। নিজের প্রিয় শিষ্য মেসিকে এবার তিনি পাচ্ছেন নতুন ঠিকানায়।

