নতুন আইন
যে কারণে পারদেসের কার্ড ঘুরে গেল এমবোলোর দিকে

কানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের মহারণে জয়ের জন্য আর্জেন্টিনাকে ঘাম ঝরাতে হয়েছে ১২০ মিনিট পর্যন্ত। তবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া সেই মুহূর্তটি ছিল অন্যরকম— ফিফার নতুন নিয়মের মারপ্যাঁচে পড়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোকে। এই একটি সিদ্ধান্তই যেন কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের স্বপ্নভঙ্গের বড় কারণ হয়ে দাঁড়াল।
ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের ৭২ মিনিটের মাথায়। সে সময় খেলা ১-১ সমতায় থাকায় সুইজারল্যান্ড ছিল দারুণ ছন্দে। আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও এমবোলোর মধ্যে বল দখলের লড়াইয়ের একপর্যায়ে রেফারি ফাউলের বাঁশি বাজান এবং পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান। কিন্তু এখানেই ঘটে বিপত্তি। ভিএআর পর্যালোচনার পর রেফারি নিশ্চিত হন যে, পারেদেস কোনো ফাউলই করেননি, বরং উল্টো এমবোলোই ফাউলের শিকার হওয়ার নাটক করেছেন।
ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যদি ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যায় কোনো খেলোয়াড় ফাউল পাওয়ার জন্য অভিনয় করেছেন, তবে মূল অপরাধী বা অভিনয়কারী খেলোয়াড়কেই শাস্তি পেতে হবে। ফলে পারেদেসের ওপর থেকে হলুদ কার্ড তুলে নিয়ে সেটি এমবোলোকে দেওয়া হয়। যেহেতু এমবোলোর নামের পাশে আগেই একটি হলুদ কার্ড ছিল, ফলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের সুবাদে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়।
এমবোলোর এই লাল কার্ড দেখার পর ফুটবল বিশ্বে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। সুইস সমর্থকরা মনে করছেন, ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার ফলেই সুইজারল্যান্ড লড়াই করার শক্তি হারিয়ে ফেলেছিল। একজন কম খেলোয়াড় নিয়ে খেলা সুইজারল্যান্ড শেষ পর্যন্ত আর পেরে ওঠেনি। সুইজারল্যান্ডের উন্নতির ধারা যখন তুঙ্গে ছিল, ঠিক তখনই এই ঘটনাটি ম্যাচটির ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
ম্যাচ শেষে খোদ আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি স্বীকার করে নেন, এমবোলোর ওই কার্ডই খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। তার ভাষায়, ‘সুইজারল্যান্ডের একজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখার পরই মূলত আমাদের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা জায়গা পায়। ফুটবলে বাস্তববাদী হওয়া জরুরি, আমাদের পারফরম্যান্সে এখনো অনেক উন্নতির জায়গা আছে। তবে দিনশেষে জয় পাওয়াটা সবসময়ই স্বস্তির।’






