স্কালোনি
কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছিলাম, ভাগ্যক্রমে জিতেছি

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে আর্জেন্টিনা। ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে কানসাস সিটির স্টেডিয়ামে যখন জয় উদযাপন করছেন মেসি-আলভারেসরা, তখন কোচ লিওনেল স্কালোনি খুশি হতে পারছেন না। এই জয়কে ঐতিহাসিক অর্জন বললেও তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন যে, মাঠের খেলায় মেসিবাহিনী ভুগেছে।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি যে মোটেও সহজ ছিল না, তা স্কালোনির বিশ্লেষণে পরিষ্কার। তিনি বলেন, ‘আমরা জানতাম সুইজারল্যান্ড কতটা শারীরিক শক্তির অধিকারী দল। তারা আমাদের বেশ কয়েকটি কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছিল, যেখান থেকে বের হয়ে আসা আমাদের জন্য বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। সত্যি বলতে, ভাগ্য আজ আমাদের সহায় ছিল।’ ম্যাচের মোড় ঘুরে যাওয়া নিয়ে কোচ বলেন, ‘সুইজারল্যান্ডের একজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখার পরই মূলত আমাদের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা জায়গা পায়। ফুটবলে বাস্তববাদী হওয়া জরুরি, আমাদের পারফরম্যান্সে এখনো অনেক উন্নতির জায়গা আছে। তবে দিনশেষে জয় পাওয়াটা সবসময়ই স্বস্তির।’
সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে ইংল্যান্ডকে পাওয়া নিয়ে তেমন বাড়তি চাপ দেখছেন না আর্জেন্টাইন কোচ। তিনি বলেন, ‘পরের ম্যাচে ইংল্যান্ড না নরওয়ে—তা নিয়ে ভাবছি না। সামনে যে দলই আসুক, তারা খুব ভালো খেলে এবং তাদের একজন দারুণ কোচ আছেন। আমাদের লক্ষ্য এখন কেবল ফুটবলারদের ক্লান্তি কাটিয়ে তোলা এবং নতুন শক্তির জোগান দেওয়া। শারীরিক ও মানসিক ধকল কাটানোই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’ আর্জেন্টিনাকে টানা সেমিফাইনালে নিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, ‘আমরা যেভাবে খেলেছি, তার চেয়েও ভালো খেলা সম্ভব ছিল। কিন্তু এই দলটা যে বারবার বিশ্বের সেরা চার দলের মধ্যে জায়গা করে নিচ্ছে, তা সত্যিই ঐতিহাসিক। ভক্তদের এই আনন্দ আর দলের লড়াকু মানসিকতাই আমাদের এগিয়ে নিচ্ছে।’
আগামী বুধবার আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মেসিদের এই ঐতিহাসিক যাত্রা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ। কোচ স্কালোনির রণকৌশল আর খেলোয়াড়দের অদম্য জেদই কি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের চাবিকাঠি হবে? উত্তর মিলবে আটলান্টার সেই মহাযুদ্ধে।






