আলিসন
‘ব্রাজিলের কোচ হওয়া রাষ্ট্রপ্রধানের চেয়েও বেশি চাপের’

সংগৃহীত ছবি
খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলা এক দল, মাঠের ভেতরে পারফরম্যান্সের দৈন্য আর ড্রেসিংরুমের অশান্ত পরিবেশ— এভাবেই কাতার বিশ্বকাপের পরবর্তী দুই বছর কাটিয়েছে ব্রাজিল ফুটবল। সেই কঠিন সময়কে পেছনে ফেলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এখন পুরোপুরি বদলে গেছে। এই পরিবর্তনের রূপকার আর কেউ নন, সেলেসাওদের নতুন ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তি।
আগামী রবিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল। তার আগে যুক্তরাষ্ট্রের বাসকিং রিজের বেস ক্যাম্প থেকে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আনচেলত্তির প্রশংসায় মেতে উঠলেন দলের এক নম্বর গোলরক্ষক আলিসন বেকার। লিভারপুলের এই তারকার দাবি, আনচেলত্তির আগমন ব্রাজিলের ড্রেসিংরুমের চেনা রূপটাই বদলে দিয়েছে।
২০২৫ সালের মে মাসে রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ব্রাজিলের দায়িত্ব নেন কার্লো আনচেলত্তি। শতবর্ষী ব্রাজিল ফুটবল ইতিহাসে তিনিই প্রথম বিদেশি কোচ, যিনি সেলেসাওদের ডাগ-আউটে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপ পরিচালনা করতে যাচ্ছেন। আনচেলত্তির অধীনে দলে যে মানসিক পরিবর্তন এসেছে, তা উল্লেখ করে আলিসন বলেন, ‘এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই, সাম্প্রতিক অতীত আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য ভীষণ কঠিন ছিল। নানা কারণে আমরা মাঠের ভেতরে ভুগছিলাম। কিন্তু আনচেলত্তি আসার পর থেকে পুরো পরিবেশটাই বদলে গেছে। তিনি এমন এক ব্যক্তিত্ব, যিনি কোনো বিতর্ক ছাড়াই দলে শান্ত এবং কাজের পরিবেশ তৈরি করতে পারেন।’
ব্রাজিল কোচের ওপর প্রত্যাশার যে চাপ থাকে, সেটাকে দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে তুলনা করে আলিসন আরও যোগ করেন, ‘ফুটবল দুনিয়ায় তিনি সম্ভাব্য সবকিছু জিতেছেন। অথচ এখানে এসেছেন একদম তরুণের মতো নতুন আনন্দ আর উদ্দীপনা নিয়ে। ব্রাজিলের কোচ হওয়া মানে হয়তো দেশের প্রেসিডেন্টের চেয়েও বেশি মানসিক চাপ নেওয়া। তিনি সেই চাপ সামলে আমাদের খেলার ধরন সহজ করে দিয়েছেন।’
কোচ আনচেলত্তির পাশাপাশি আলিসন তার দীর্ঘদিনের গোলকিপিং কোচ এবং ১৯৯৪ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ক্লাউদিও টাফরেলের অবদানের কথাও স্মরণ করেন। লিভারপুল ও জাতীয় দল— দুই জায়গাতেই টাফরেলকে মেন্টর হিসেবে পেয়েছেন আলিসন। শৈশবের এক মজার স্মৃতি রোমন্থন করে আলিসন বলেন, ‘১৯৯৮ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে যখন টাফরেল পেনাল্টি ঠেকালেন, আমার বয়স তখন মাত্র ছয় বছর। আমার বাবা তখন খুশিতে একটা আস্ত কেক নিয়ে নিজের মুখেই মেখে ফেলেছিলেন! সেই থেকে টাফরেল আমার আইডল। তার সঙ্গে কাজ করতে পারাটা ভাগ্যের ব্যাপার। কঠিন সময়ে তিনি আমাদের আগলে রাখেন।’
২০০২ সালের পর দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটা ছোঁয়া হয়নি সাম্বা বয়দের। গত দুটি বিশ্বকাপেই তাদের বিদায় নিতে হয়েছে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। তবে আনচেলত্তির অধীনে এবার নতুন স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামছে ব্রাজিল। গ্রুপ ‘সি’-তে তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো। অতীত ব্যর্থতা ভুলে ব্রাজিলের লক্ষ্য এবার হেক্সা জয়।






